দেশের পর্যটন খাতে এবারের মৌসুম প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জাতীয় নির্বাচনের প্রভাব মিলিয়ে শীতকালজুড়ে ভ্রমণ কম ছিল। এর মধ্যে সামনে পবিত্র রমজান। ফলে হোটেল মোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায় আরও চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পর্যটক টানার কৌশল হিসেবে বড় অঙ্কের মূল্যছাড় ও বিশেষ প্যাকেজ চালু করেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, শীতকাল সাধারণত ভ্রমণের প্রধান সময় হলেও এবার সে সুবিধা পাওয়া যায়নি। নির্বাচনের দিনগুলোতে অনেক পর্যটন এলাকায় কক্ষ ফাঁকা ছিল। রোজা শুরু হলে পারিবারিক ও ধর্মীয় ব্যস্ততা বাড়ায় ভ্রমণ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে রোজা ও ঈদকে কেন্দ্র করে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

ভ্রমণ প্ল্যাটফর্ম শেয়ারট্রিপ–এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া হক জানান, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে পর্যটন খাতের ব্যবসা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমেছে। নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি এর বড় কারণ।

ঢাকার কাছের জনপ্রিয় গন্তব্য গাজীপুর–এর রিসোর্টগুলোতেও ছাড় চলছে। সারাহ রিসোর্টে জানুয়ারিজুড়ে কক্ষভেদে ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় ছিল। ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা রোজায় সব কক্ষে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যেখানে বুকিং ছিল প্রায় ৫০ শতাংশ, সেখানে এ বছর তা নেমে এসেছে ২০ শতাংশে। কালমেঘা কান্ট্রি ক্লাব অ্যান্ড রিসোর্টেও রোজায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দেওয়া হচ্ছে।

উত্তর–পূর্বাঞ্চলে সিলেট ও শ্রীমঙ্গল অঞ্চলের হোটেল রিসোর্টগুলোও একই কৌশল নিয়েছে। শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা রিসোর্টে জানুয়ারিতে ৩২ শতাংশ ছাড় ছিল এবং বর্তমানে কিছু কক্ষে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় চলছে। রিসোর্টটির কর্মকর্তারা জানান, রুম বুকিং গতবারের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম।

সমুদ্রনগরী কক্সবাজার–এও রুম বুকিং কমেছে। রোজা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তাই অনেক হোটেল ও রিসোর্ট ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে। সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পাতে রোজায় কক্ষভাড়া আট হাজার টাকা থেকে কমিয়ে পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্সোটিকা সাম্পান হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টও ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৫০ শতাংশ ছাড় ঘোষণা করেছে।