বরিশাল শহর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে কড়াপুরের শান্ত গ্রামীণ পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক মিয়াবাড়ি মসজিদ। উঁচু ভিত্তির ওপর নির্মিত দোতলা এই মসজিদের তিনটি গম্বুজ, কারুকার্যময় মিনার ও অলংকৃত দেয়াল আজও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। স্থাপনাটিকে মুঘল স্থাপত্যের প্রভাবধারী গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

প্রায় দুই শতাব্দীর পুরোনো স্থাপত্য

মিয়াবাড়ি মসজিদের নির্মাণকাল নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে কিছুটা মতভেদ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এটি ১৮০০ সালের দিকে নির্মিত বলে ধারণা করা হয়। আবার কিছু ঐতিহাসিক সূত্রে আঠারো শতকের শেষভাগ কিংবা উনিশ শতকের শুরুর সময়ের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডও মসজিদটিকে প্রাচীন মুঘল স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

দোতলা কাঠামোই প্রধান বৈশিষ্ট্য

মসজিদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য এর উঁচু ভিত্তির ওপর নির্মিত দোতলা কাঠামো। প্রশস্ত সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে হয় মূল নামাজের স্থানে। সামনের অংশে রয়েছে তিনটি গম্বুজ, যার মাঝেরটি তুলনামূলক বড়। গম্বুজ ও দেয়ালের পাশাপাশি মিনারগুলোতেও সূক্ষ্ম অলংকরণ দেখা যায়। বিভিন্ন সূত্রে মসজিদে আটটি বড় ও ১২টি ছোট মিনারের উল্লেখ পাওয়া যায়।

স্থাপত্যের অলংকরণে জ্যামিতিক নকশা, ফুলেল নকশা ও পোড়ামাটির কারুকাজের ব্যবহার রয়েছে। এ কারণে মসজিদটি ধর্মীয় স্থাপনা হওয়ার পাশাপাশি স্থাপত্যপ্রেমীদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ।

হায়াত মাহমুদের সঙ্গে জড়িয়ে ইতিহাস

স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা জমিদার হায়াত মাহমুদ। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের কারণে তিনি নির্বাসিত হন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর দেশে ফিরে তিনি মসজিদ ও দুটি দীঘি নির্মাণ করেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। তবে নির্মাতা ও নির্মাণকাল নিয়ে ঐতিহাসিক সূত্রে কিছু পার্থক্য রয়েছে।

মসজিদের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে থাকা বড় দীঘি এবং চারপাশের সবুজ পরিবেশ স্থাপনাটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়েছে।

কীভাবে যাবেন

মিয়াবাড়ি মসজিদ বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের উত্তর কড়াপুর এলাকায় অবস্থিত। বরিশাল শহর থেকে দূরত্ব প্রায় ৯ থেকে ১০ কিলোমিটার। শহর থেকে স্থানীয় ব্যাটারিচালিত যান বা ইজিবাইকে যাওয়া যায়। বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল শহর থেকে নয়াগ্রাম সড়ক হয়ে যাওয়া সুবিধাজনক।