সাগরের ঢেউ সরে যাওয়ার পর বালুচরে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য সাদা ঝিনুক। দূর থেকে তাকালে মনে হচ্ছে, কুয়াকাটা সৈকতে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বিশাল সাদা গালিচা। ভোরের আলোয় ঝিনুকের এই প্রাকৃতিক সমারোহে বদলে গেছে সৈকতের চেনা দৃশ্য। নতুন এই আকর্ষণ দেখতে কুয়াকাটায় আসা পর্যটকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, কুয়াকাটা সৈকতের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য সামুদ্রিক ঝিনুক ও শামুক। বিশেষ করে জিরো পয়েন্ট থেকে লেম্বুরবন দোলনা পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় ঝিনুকের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে।

স্থানীয় জেলে মতি মিয়া বলেন, ছোটবেলায় সৈকতে হাজার হাজার ঝিনুক ভেসে আসতে দেখেছেন। মাঝখানে অনেক বছর ঝিনুকের তেমন দেখা মেলেনি। গত বছর থেকে আবার ঝিনুক দেখা যাচ্ছে। এতে পর্যটকদের আনন্দও বেড়েছে বলে জানান তিনি।

ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটক দম্পতি শিহাব ও সামিমা বলেন, এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখেননি। চারপাশে সাদা ঝিনুক দেখে তাদের মনে হয়েছে, যেন রূপকথার কোনো সমুদ্রসৈকতে এসেছেন। এই সৌন্দর্য দীর্ঘদিন থাকলে কুয়াকাটায় পর্যটকদের আকর্ষণ আরও বাড়বে বলে মনে করেন তারা।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, সৈকতে ঝিনুকের এমন প্রাকৃতিক দৃশ্য পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। এটিকে পর্যটন প্যাকেজের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে স্থানীয়দের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে যাতে কেউ ঝিনুক সংগ্রহ করে নিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।

কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য মতিউর রহমান বলেন, এমন দৃশ্য অনেক বছর ধরে দেখা যায়নি। সৈকতের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল ইসলাম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার পাশাপাশি পর্যটনশিল্প রক্ষায় কাজ করছেন তারা। সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণেও প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখবেন ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা।

জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সৈকতে ঝিনুকের এমন উপস্থিতি কুয়াকাটার পর্যটনে সাময়িক হলেও নতুন আকর্ষণ তৈরি করেছে। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য পরিচিত কুয়াকাটা সৈকতে এই প্রাকৃতিক দৃশ্য পর্যটকদের অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করছে।