শরতের সাদা কাশফুলে বদলে গেছে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার গোমতী নদীর চর। নীল আকাশ, সাদা মেঘ, নদীর জল আর বাতাসে দুলতে থাকা কাশবন মিলে তৈরি হয়েছে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ। বিশেষ করে বিকেলের নরম আলোয় বিস্তীর্ণ চরজুড়ে ফুটে থাকা কাশফুলের সৌন্দর্য টানছে স্থানীয়সহ বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থীদের।
দাউদকান্দি সেতু থেকে নামার পর বাউশিয়া পাখির মোড় এলাকা পড়েছে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নে। গোমতী নদীর চরঘেঁষা এই এলাকাতেই এখন দেখা মিলছে শরতের সাদা কাশের বিস্তীর্ণ মাঠ। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে স্থানীয়দের উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, বর্ষার পানি কমে যাওয়ার পর প্রতিবছর নদীর চর ও আশপাশের খোলা জায়গায় কাশফুল ফুটতে শুরু করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কোথাও নদীর পানি, কোথাও সবুজ ঘাস, আবার তার মাঝখানে সাদা কাশফুল। বাতাসে কাশের শীষ একসঙ্গে দুললে দূর থেকে মনে হয়, চরের ওপর সাদা ঢেউ উঠেছে। বর্ষার পানির রেশ থাকায় নদী ও চরজুড়ে এখনো রয়েছে স্যাঁতসেঁতে প্রকৃতির আবহ।
শরতের সঙ্গে কাশফুলের সম্পর্ক বাংলার প্রকৃতি ও সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিনের। নদীর চর, জলাশয়ের পাড় ও খোলা জমিতে এই ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ সাধারণত বর্ষার শেষভাগ থেকে শরতের শুরুতে ফুল দেয়। কাশফুলের সঙ্গে দুর্গাপূজার আগমনেরও একটি সাংস্কৃতিক যোগ রয়েছে।
পাখির মোড়ের কাশবনে পরিবার, বন্ধু কিংবা একা ঘুরতে আসছেন দর্শনার্থীরা। কেউ কাশফুলের মধ্যে ছবি তুলছেন, কেউ নদীর পাড়ে বসে বিকেলের পরিবেশ উপভোগ করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, শরতের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিবছরই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে আসেন।
তবে এটি নদীর চরাঞ্চল হওয়ায় ভ্রমণের সময় স্থানীয়দের পরামর্শ নেওয়া, পানির কাছাকাছি সতর্ক থাকা এবং কাশবন নষ্ট না করার বিষয়টি মনে রাখা জরুরি।