পর্যটন খাতকে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বড় ধরনের উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সৃজনশীল অর্থনীতির আওতায় পর্যটন খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে খাতটিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি জানান, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ খাতের উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই তহবিল থেকে পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারাও অর্থায়নের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কর্মসূচির আওতায় আরও ৫০০ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ যাত্রী ও লজিস্টিকস হাবে উন্নীত করা হবে।

একই সঙ্গে কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালও শিগগির চালুর প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া বাংলাদেশ বিমানের আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ, যাত্রীসেবা উন্নয়ন এবং কার্গো ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকার ইকোট্যুরিজমকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ খাতের দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। রন্ধনশিল্প ও আতিথেয়তা খাতসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করা হবে এবং বিশ্বস্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা করা হবে।

সরকার একটি সমন্বিত ‘পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ দ্রুত চূড়ান্ত করার কাজও এগিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের সৃজনশীল সক্ষমতা তুলে ধরতে ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ নামে জাতীয় ব্র্যান্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাজেটে জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে পর্যটক আকর্ষণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একটি বিনিয়োগ রোডম্যাপ প্রণয়নের কথাও জানিয়েছে সরকার।