বিদেশ ভ্রমণ মানেই বিপুল খরচ, এমন ধারণা এখন অনেকটাই বদলে গেছে। অনুকূল মুদ্রা বিনিময় হার, তুলনামূলক কম দামের আবাসন এবং সাশ্রয়ী বিমান ভাড়ার কারণে ২০২৬ সালেও বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ বাজেট ভ্রমণকারীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দেশে তুলনামূলক কম খরচে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা উপভোগ করা সম্ভব।

বিশ্বের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ভ্রমণ গন্তব্য নিয়ে জাতিসংঘের কোনো আনুষ্ঠানিক তালিকা নেই। তবে ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা নামবিও কস্ট অব লিভিং সূচক ২০২৬ এবং বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস ২০২৬-এর মতো আন্তর্জাতিক তথ্যসূত্র বিশ্লেষণ করে কম খরচে ভ্রমণের উপযোগী দেশগুলোর তালিকা তৈরি করেন।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভিয়েতনাম। রাজধানী হ্যানয়ের পুরোনো এলাকা, হা লং উপসাগরের চুনাপাথরের দ্বীপপুঞ্জ এবং হই আনের আলোকসজ্জিত ঐতিহাসিক সড়ক পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। দেশটির পথের খাবারও তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়া শুধু বালিতেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশটির হাজারো দ্বীপ, সমুদ্রসৈকত, আগ্নেয়গিরি, জলপ্রপাত এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ভ্রমণপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। বিলাসবহুল রিসোর্টের বাইরে আবাসন ও স্থানীয় খাবারের খরচও তুলনামূলক কম।

নেপাল দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সাশ্রয়ী আন্তর্জাতিক গন্তব্য। কাঠমান্ডু, পোখারা ও অন্নপূর্ণা অঞ্চলে কম বাজেটেও ভ্রমণ সম্ভব। ভারতীয় নাগরিকদের জন্য দেশটিতে ভিসার প্রয়োজন হয় না।

কম্বোডিয়া ইতিহাস ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের জন্য জনপ্রিয়। বিশ্বখ্যাত আংকোর ওয়াট, রাজধানী নমপেনের ঐতিহাসিক স্থাপনা, কোহ রংয়ের সমুদ্রসৈকত এবং টনলে সাপ হ্রদের ভাসমান গ্রাম পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত জর্জিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাজেট ভ্রমণকারীদের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। রাজধানী তিবিলিসির ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য, সালফার স্নানাগার এবং ককেশাস পর্বতমালার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেশটিকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

আর্মেনিয়া প্রাচীন মঠ, পাহাড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং রাজধানী ইয়েরেভানের সাশ্রয়ী আবাসন ও ক্যাফের জন্য পরিচিত।

লাওস ধীরগতির ও প্রকৃতিনির্ভর ভ্রমণ পছন্দকারীদের জন্য উপযুক্ত। ইউনেস্কো স্বীকৃত লুয়াং প্রাবাং পুরোনো শহর, কুয়াং সি জলপ্রপাত এবং মেকং নদীতে নৌভ্রমণ দেশটির অন্যতম আকর্ষণ।

মধ্য এশিয়ার কাজাখস্তানও কম খরচে ভ্রমণের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। রাজধানী আস্তানা, আলমাতি, চারিন ক্যানিয়ন এবং তুষারাবৃত পাহাড় পর্যটকদের আকর্ষণ করে। গণপরিবহন ও স্থানীয় খাবারের খরচও তুলনামূলক কম।

দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়া প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও আদিবাসী সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। বিশ্বের বৃহত্তম লবণ সমতল সালার দে উইউনি, টিটিকাকা হ্রদ এবং লা পাজের ঐতিহ্যবাহী বাজার ভ্রমণকারীদের অন্যতম আকর্ষণ।

তালিকার শেষ গন্তব্য আলবেনিয়া। ইউরোপের সাশ্রয়ী সমুদ্রসৈকত গন্তব্যগুলোর মধ্যে দেশটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। স্বচ্ছ নীল জলরাশি, আলবেনিয়ান রিভিয়েরা এবং ইউনেস্কো স্বীকৃত বেরাত ও জিরোকাস্টারের ঐতিহাসিক শহর দেশটির বিশেষ আকর্ষণ।

২০২৬ সালের ১০টি সাশ্রয়ী ভ্রমণ গন্তব্য
১. ভিয়েতনাম
২. ইন্দোনেশিয়া
৩. নেপাল
৪. কম্বোডিয়া
৫. জর্জিয়া
৬. আর্মেনিয়া
৭. লাওস
৮. কাজাখস্তান
৯. বলিভিয়া
১০. আলবেনিয়া