টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে খাগড়াছড়ির দিঘীনালা, বাঘাইহাট ও মাচালং সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য সাজেকে প্রায় ৬০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন। বুধবার থেকে যান চলাচল বন্ধ থাকায় তারা ফিরতে পারছেন না। এর মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পর্যটক ও কটেজ মালিকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা।

তিনি জানান, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে দিঘীনালা, বাঘাইহাট ও মাচালং সড়ক পানির নিচে চলে গেছে। প্রবল স্রোতের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। গত রোববার ও সোমবার সাজেকে আসা প্রায় ৬০০ পর্যটক বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন। সবাই নিরাপদ আছেন। সড়কের পানি কমে গেলে তারা নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারবেন।

রাহুল চাকমা আরও বলেন, বৈরী আবহাওয়া ও দুর্যোগের কারণে পর্যটকরা নির্ধারিত সময়ে ফিরতে না পারলে কটেজগুলোতে তাদের বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি কটেজ মালিক সমিতির মানবিক উদ্যোগ।

এদিকে দিঘীনালা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে পানি ঢুকে পড়ায় বুধবার বিকেল থেকে সাজেক ও দিঘীনালার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। এতে কটেজ পরিচালনা ও পর্যটকসেবা স্বাভাবিক রাখতে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

স্থানীয় কটেজ মালিক যুবরাজ বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর দিয়ে পানি তোলা ও মোবাইল চার্জের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়বে। তার দাবি, সড়কের কোথাও কোথাও এখনো প্রায় সাত ফুট পানি রয়েছে এবং থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা কম।

দিঘীনালা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী হিল্লোল বড়ুয়া জানান, উপকেন্দ্র থেকে কিছু পানি নেমে যাওয়ায় কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়েছে। তবে যেসব এলাকায় এখনো পানি রয়েছে, সেখানে নিরাপত্তার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে।

এর আগে ৭ জুলাই সন্ধ্যায় ভারী বর্ষণ ও সম্ভাব্য পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করে জেলা প্রশাসন। ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সাজেকে বর্ষাকালে ভ্রমণের আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, সড়কের অবস্থা এবং জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ নির্দেশনা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আটকা পড়া পর্যটক: প্রায় ৬০০ জন
যান চলাচল: বন্ধ
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি: আংশিক বন্ধ
পর্যটকদের অবস্থা: সবাই নিরাপদ
কটেজে অতিরিক্ত থাকা: বিনামূল্যে
সাজেক ভ্রমণ: জেলা প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ