বিমানে ভ্রমণের সময় সবারই পছন্দের একটি পানীয় থাকে। কেউ পছন্দ করেন ঝাল-নোনতা ব্লাডি মেরি, কেউ কোলা, আবার কেউ শুধু পানি পান করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে অনেক নিয়মিত যাত্রীর মতে, ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় সবচেয়ে উপভোগ্য পানীয় হলো এক গ্লাস ঠান্ডা জিঞ্জার এল।
গবেষণার বরাতে ট্রাভেল অ্যান্ড লেইজার লিখেছে, মাটিতে থাকাকালে জিঞ্জার এলকে হয়তো খুব সাধারণ একটি কোমল পানীয় মনে হতে পারে। অনেকের কাছে এটি অসুস্থতার সময় পান করা পানীয় বা ককটেল তৈরির উপাদান হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু আকাশে এর স্বাদ ও আবেদন যেন অন্যরকম হয়ে ওঠে।
জিঞ্জার এলের ইতিহাস
জিঞ্জার এল প্রথম তৈরি হয় উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে। পরে এটি উত্তর আমেরিকায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯০৪ সালে কানাডার অন্টারিওর এনিসকিলেনে জন জে. ম্যাকলাফলিন তৈরি করেন বিখ্যাত ‘ক্যান্ডা ড্রাই‘ব্র্যান্ড। এর হালকা রং, ঝাঁঝালো বুদবুদ এবং তুলনামূলক কম মিষ্টি স্বাদের কারণে একে একসময় “জিঞ্জার এলের শ্যাম্পেন” বলা হতো।
১৯২০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন মদ্যপান কেন্দ্রগুলোতেও জিঞ্জার এল ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কারণ এটি হুইস্কি ও জিনের মতো মদের স্বাদকে আরও সহজপাচ্য করে তুলত।
বর্তমানে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় কোমল পানীয়গুলোর একটি। তবে এর সবচেয়ে বড় জনপ্রিয়তা দেখা যায় আকাশপথে ভ্রমণের সময়।
বিমানে স্বাদ বদলে যায় কেন?
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিমানে ভ্রমণের সময় মানুষের স্বাদ ও গন্ধ অনুভব করার ক্ষমতা কিছুটা কমে যায়। এর প্রধান কারণ হলো কেবিনের কম আর্দ্রতা ও বায়ুচাপ।
পুষ্টিবিদ লরেন গ্রসকপফের মতে, বিশেষ করে মিষ্টি ও নোনতা স্বাদ সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়। ফলে মাটিতে যে পানীয় বেশি মিষ্টি মনে হয়, আকাশে সেটি তুলনামূলক কম মিষ্টি লাগে।
জিঞ্জার এলের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট। বিশেষ করে কম মিষ্টি বা ‘ড্রাই’ ধরনের জিঞ্জার এল বিমানে আরও ঝাঁঝালো, সতেজ এবং সতর্কতাদায়ক স্বাদ দেয়। ফলে অনেক যাত্রীর কাছে এটি অন্যান্য কোমল পানীয়ের তুলনায় বেশি উপভোগ্য মনে হয়।
বমিভাব কমাতেও সাহায্য করতে পারে
আদা দীর্ঘদিন ধরেই বমিভাব, বদহজম ও পেটের অস্বস্তি দূর করার ঘরোয়া উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
গ্রসকপফের ভাষায়, “উদ্বিগ্ন বা নার্ভাস যাত্রীদের পেটের অস্বস্তি কমাতে আদা সহায়ক হতে পারে।”
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। ২০১৮ সালে ‘ক্যানাডা ড্রাইয়ের’ এর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, কারণ তাদের জিঞ্জার এলে প্রকৃত আদা নেই বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে আরাম পাওয়ার অনুভূতিটি মানসিক প্রভাবের কারণেও হতে পারে। তবে যদি পানীয়টিতে সত্যিকারের আদা থাকে, তাহলে তা অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারে।
কেবিন ক্রুদের জন্যও সুবিধাজনক
জিঞ্জার এলের আরেকটি সুবিধা হলো, এটি পরিবেশন করা তুলনামূলক সহজ। উদাহরণস্বরূপ, ডায়েট কোকের মতো পানীয় উচ্চতায় বেশি ফেনা তৈরি করে এবং পরিবেশনের সময় বেশি অপেক্ষা করতে হয়।
ফলে অনেক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের কাছেও জিঞ্জার এল একটি সুবিধাজনক পানীয়।
শুধু বিজ্ঞান নয়, আছে আবেগও
বিজ্ঞানের ব্যাখ্যার বাইরে আরও একটি কারণ আছে। অনেক নিয়মিত বিমানযাত্রীর কাছে জিঞ্জার এল পান করা ভ্রমণেরই একটি অংশ। এটি একধরনের অভ্যাস, যা ভ্রমণের অনুভূতিকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।
তাই পরেরবার বিমানে ভ্রমণের সময় যদি নতুন কিছু চেষ্টা করতে চান, তাহলে এক ক্যান জিঞ্জার এল অর্ডার করে দেখতে পারেন। অনেকের মতো আপনার কাছেও এটি হয়ে উঠতে পারে আকাশযাত্রার সবচেয়ে সতেজ পানীয়।