বর্ষাকালের টানা বৃষ্টি আর উত্তাল সাগরও থামাতে পারেনি পর্যটকদের। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও দেশের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে বাড়ছে দর্শনার্থীর ভিড়। মেঘলা আকাশ, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও উত্তাল সাগরের ভিন্নধর্মী সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসছেন সমুদ্রনগরীতে।
রোববার সকাল থেকে কক্সবাজারে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ছিল পর্যটকদের সরব উপস্থিতি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকেই সৈকতে ঘুরেছেন, আবার কেউ ছাতা হাতে সমুদ্রতীরে হেঁটেছেন। অনেকে বর্ষার সমুদ্রের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতেও ব্যস্ত ছিলেন।
সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী সৈকত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মেঘলা আকাশ আর ঢেউয়ের গর্জনের মধ্যে পর্যটকেরা বর্ষার বিশেষ আবহ উপভোগ করছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় বর্ষায় কক্সবাজারের সৌন্দর্য সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা পায়।
কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, চলতি মৌসুমে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি পর্যটক আসছেন।
তিনি বলেন, “বর্তমানে প্রায় সব হোটেলেই অতিথি রয়েছেন। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা কমে যায়। তবে এবার আগের বছরের তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।”
পর্যটক শাহেদ জানান, সকালে সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে তিনি টেকনাফ পর্যন্ত ভ্রমণ করেছেন।
তিনি বলেন, “পথে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। এই আবহাওয়ায় মেরিন ড্রাইভের সৌন্দর্য আরও বেশি চোখে পড়ে।”
আরেক পর্যটক মুখলেস বলেন, “বর্ষাকালে সমুদ্র দেখার অভিজ্ঞতা অন্য সময়ের চেয়ে আলাদা। আমি খুব উপভোগ করছি।”
কক্সবাজার অঞ্চলের ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমল জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে টহল জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে সি সেফ লাইফগার্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। তাই পানিতে নামার ক্ষেত্রে পর্যটকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে রিপ কারেন্ট এবং সৈকতের গোপন খালের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরার নৌকাগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।