ব্যক্তিগত সম্পর্ক শুরুর ক্ষেত্রে ইউরোপের প্রায় অর্ধেক মানুষ ভ্রমণকে সবচেয়ে কার্যকর উপায় মনে করে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। 
গবেষণার বরাতে ইউরো নিউজ লিখেছে, ভ্রমণের যৌথ অভিজ্ঞতা, প্রতিদিনের একঘেয়ে রুটিন থেকে দূরে থাকা এবং অন্যদের প্রতি আরও বেশি উদার মনোভাব ভ্রমণকে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধনে পরিণত করতে সাহায্য করে।

একটি ভ্রমণকে স্মরণীয় করে রাখার পেছনে শুধু সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যই ভূমিকা রাখে না—বহু ভ্রমণকারীর কাছে পথিমধ্যে যাদের সাথে দেখা হয়, তারা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক ইউরোপীয় বিশ্বাস করেন ভ্রমণ নতুন ব্যক্তিগত সম্পর্ক শুরু করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। কারণ দৈনিক রুটিন থেকে দূরে থাকার ফলে মানুষ নতুন অভিজ্ঞতা এবং নতুন সম্পর্কের প্রতি অনেক বেশি ইতিবাচক ও উন্মুক্ত বোধ করে।

গবেষণাটি করেছে ভ্রমণ বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম 'উইরোড'। এতে স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যের ৫,০০০ ব্যক্তির কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
উপাত্ত অনুযায়ী, ৪৫ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন যে তারা কর্মক্ষেত্র বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী জায়গাগুলোর চেয়ে ভ্রমণকেই নতুন বন্ধুত্ব তৈরির সেরা উপায় বলে মনে করেন।
মনে হচ্ছে ভ্রমণের এই স্বাধীনতাই মানুষকে নতুন সম্পর্ক তৈরিতে উৎসাহিত করে। প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৮ জন উত্তরদাতা বলেছেন যে ভ্রমণের সময় তারা অন্যদের প্রতি বেশি সংবেদনশীল বা আন্তরিক বোধ করেন, এবং ৫৮ শতাংশ ব্যাখ্যা করেছেন যে নতুন মানুষের সাথে দেখা হওয়া ভ্রমণের একটি অপরিহার্য অংশ।

এই মনোভাবগুলো আসলেই কাজ করে বলে মনে হয়, কারণ ৬৬ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে তারা ভ্রমণের সময় অন্য কোনো ব্যক্তির সাথে একটি প্রকৃত বা খাঁটি সম্পর্ক তৈরি করতে পেরেছেন।
ভ্রমণের সময় গড়ে ওঠা সম্পর্কগুলো কেন আলাদা—উইরোড যখন ইউরোপীয় জরিপে অংশগ্রহণকারীদের এই প্রশ্নটি করেছিল, তখন উত্তরগুলো ছিল বৈচিত্র্যময় কিন্তু ইতিবাচক।

উপাত্তে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা যৌথ বা একসাথ কাটানো অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন, আর ৪৩ শতাংশ বলেছেন যে সারা দিন একসাথে কাটানোর কারণেই এমনটা হয়েছে।
এদিকে, ৩০ শতাংশ মানুষ তাদের নতুন সম্পর্কের পেছনে রুটিন থেকে দূরে থাকাকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন, ১৯ শতাংশ বলেছেন পারস্পরিক কোনো প্রত্যাশা না থাকা এবং ১৬ শতাংশ মানুষ বলেছেন দৈনন্দিন জীবনের চেনা গণ্ডি বা সামাজিক ভূমিকার মধ্যে আটকে না থাকার অনুভূতিকে।

আমরা অত্যন্ত অনলাইন-কেন্দ্রিক একটি বিশ্বে বসবাস করা সত্ত্বেও, মনে হচ্ছে আগের চেয়ে অনেক বেশি মানুষ এখন অফলাইনে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাচ্ছেন।
জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র ৯ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে তারা সামাজিক যোগাযোগের জন্য ডেটিং অ্যাপ এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন। তবে ৭২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী অফলাইনে আরও বেশি সামাজিক অভিজ্ঞতা অর্জন এবং সরাসরি (ইন-পার্সন) যোগাযোগের মুহূর্ত তৈরি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
এটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন ৬৬ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন যে কয়েক বছর আগের তুলনায় এখন নতুন মানুষের সাথে দেখা করা আরও জটিল হয়ে গেছে। পাশাপাশি ৮৪ শতাংশ মানুষের মতে, বর্তমান সময়ে সত্যিকারের অর্থপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠিন।

গবেষণায় অংশ নেওয়া অর্ধেক ইউরোপীয়ই তাদের বর্তমান সামাজিক জীবন নিয়ে অসন্তুষ্টির কথা স্বীকার করেছেন। এর পেছনে তারা সময়ের অভাব (৩৩ শতাংশ), প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা বা দ্বিধা (২৫ শতাংশ), কিংবা সামাজিক উদ্বেগ বা সোশ্যাল অ্যাংজাইটি (২১ শতাংশ)-কে দায়ী করেছেন।

প্রতি পাঁচজন উত্তরদাতার মধ্যে একজন জানিয়েছেন যে তারা বড় শহর কিংবা কোনো প্রত্যন্ত অঞ্চল—যেখানেই থাকুন না কেন, একাকীত্বের তীব্র অনুভূতিতে ভোগেন। ভ্রমণ সবাইকে একই অবস্থানে নিয়ে আসে এবং অতীত বা পটভূমি যা-ই হোক না কেন, যৌথ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মানুষকে একে অপরের সাথে যুক্ত হতে সাহায্য করে।