সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার যমুনা নদীর তীরে গড়ে ওঠা মেঘাই পর্যটন কেন্দ্র একসময় স্থানীয় ও দূরদূরান্তের ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ করলেও বর্তমানে দীর্ঘদিনের অবহেলা, পর্যটক সংকট এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের আওতাধীন এ কেন্দ্রটির অবকাঠামো ব্যবহার না হওয়ায় ধীরে ধীরে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও কেন্দ্রটি থেকে কোনো রাজস্ব আয় হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যটন কেন্দ্রের রিসোর্ট, বিনোদন সুবিধা ও অন্যান্য স্থাপনা অধিকাংশ সময়ই ফাঁকা পড়ে থাকে। দর্শনার্থীর অভাবে বিভিন্ন অবকাঠামোর নিয়মিত ব্যবহার না হওয়ায় সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণও ব্যাহত হচ্ছে।

পর্যটন কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে পর্যটকদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এরপর থেকে কেন্দ্রটির কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বর্তমানে কোনো আয় না থাকলেও সরকারি বিধি অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে। ফলে সরকারের ব্যয় অব্যাহত থাকলেও রাজস্ব আদায় হচ্ছে না।

স্থানীয়দের মতে, যমুনা নদীর তীরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশ, খোলামেলা নদীভূমি এবং নিরিবিলি অবস্থানের কারণে মেঘাই পর্যটন কেন্দ্রের পর্যটন সম্ভাবনা এখনও যথেষ্ট রয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং কার্যকর প্রচারণা।

পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের আঞ্চলিক পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে সচল রাখতে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটকবান্ধব সেবা, স্থানীয় উদ্যোগ এবং নিয়মিত প্রচারণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে উত্তরাঞ্চলের পর্যটন খাতে নতুন গতি আসতে পারে এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানও উপকৃত হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তথ্যবক্স

স্থান: মেঘাই ঘাট, কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ
পরিচালনা: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন
বর্তমান অবস্থা: পর্যটক সংকটে কার্যক্রম প্রায় স্থবির
মাসিক ব্যয়: কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা
সম্ভাবনা: রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও প্রচারণা বাড়ানো গেলে উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।