বাইক, স্কুটি শখের হলেও হেলমেট নিয়ে ভাবেন না অনেকেই। অথচ এই হেলমেটই জীবন বাঁচাতে পারে। ট্রাফিক পুলিশের স্লোগানেও তাই বার বার নানাভাবে আসে হেলমেট পরার বার্তা।

কিন্তু হেলমেটেরও ধরন আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। অনেকেই হেলমেট কেনার সময়ে রং ও নকশা দেখেন। বুঝে নেন মুখের সঙ্গে তা মানানসই কিনা। কিন্তু হেলমেট কেনার সময় দেখে নেওয়া দরকার আরো অনেক কিছু, বিশেষ করে এর নিরাপত্তার বিষয়গুলো বোঝা খুবই জরুরি।

কোন হেলমেট কোন ধরনের নিরাপত্তা দেয়, সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন ছেপেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।

মুখ এবং মাথা ঢাকা হেলমেট।

মুখ এবং মাথা ঢাকা হেলমেট
এ ধরনের হেলমেট মাথা, কপাল, থুতনি, চোয়াল সবটাই ঢেকে রাখে। বাইক বা স্কুটার চালানোর সময়ে যেন ধুলো বা কোনো কিছু উড়ে এসে চোখে না পড়ে সেই জন্য স্বচ্ছ কভারও থাকে। দুর্ঘটনা ঘটলে মাথা কীভাবে রক্ষা পাবে, তা ভেবেই হেলমেট তৈরি করা হয়। মাথা থেকে তা যেন খুলে না যায় তার জন্য শক্ত স্ট্র্যাপ থাকে। আবার সহজে তা খোলা-পরার ব্যবস্থাও থাকে। ফুল ফেস হেলমেট, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে সক্ষম। চোয়াল বা থুতনিও এতে অপেক্ষাকৃত সুরক্ষিত থাকে। হেলমেট কেনার সময়ে সেটি সার্টিফায়েড কিনা দেখে নেওয়া দরকার।

চাইলে থুতনির গার্ডটি উপরে তুলে দেওয়া যায়।

মডুলার হেলমেট বা ফ্লিপ-আপ
এ ধরনের হেলমেটে মুখ ঢাকা যায়, আবার চাইলে সামনের অংশটি তুলেও দেওয়া যায়। যানজটে আটকে থাকলে বা কারও সঙ্গে কথা বলার দরকার হলে কিংবা খুব গরম বোধ হলে সামনের অংশটি তুলে দেওয়া যায়, পুরো হেলমেট খোলার প্রয়োজন হয় না। ভালো মানের মডুলার হেলমেটে থুতনি ঢাকা থাকে, চোখও ঢাকা থাকে। দু’টি অংশ আলাদা ভাবে মাথার উপরে তুলে দেওয়া যায়। নিরাপত্তার সঙ্গে আপস না করে কেতাদুরস্ত হেলমেট চাইলে বেছে নিতে পারেন এটি।

এই ধরনের হেলমেটে থুতনির অংশে কোনও গার্ড থাকে না। মুখে সামনের অংশ খোলা রাখা যায়।

মুখ খোলা হেলমেট

এই ধরনের হেলমেট খুবই জনপ্রিয়। সাধারণত যারা অল্প দূরত্বে যাতায়াত করেন, তাদের জন্য জন্য এটি ভালো। এতে মাথার পেছনের অংশ, কপাল, কান ঢাকা থাকে। তবে থুতনির অংশটি খোলা থাকে। চোখ বা মুখের সামনের অংশ ঢাকার জন্য স্বচ্ছ ফাইবারের বর্ম থাকে, যেটি ইচ্ছামতো নামানো-ওঠানো যায়।

এই হেলমেটে মাথার অংশটি  শুধু ঢাকা থাকে।

হাফ বা অর্ধ হেলমেট

যারা হেলমেট পরতে অস্বস্তিবোধ করেন, এটি তাদের জন্য ভালো। এই হেলমেটে শুধুই মাথার উপরের অংশ ঢাকা থাকে। অনেকটা অংশ খোলা থাকায় গরমে ভালো। প্রচুর হাওয়া ঢোকে। তবে এই হেলমেট হালকা হলেও নিরাপত্তার দিক থেকে খুব একটা গ্রহণযোগ্য নয়।

শুধু নিরাপত্তা নয়, দ্রুত গতিতে বাইক ছোটানোর জন্যও এর নকশা তৈরি করা হয়।

ডুয়াল স্পোর্ট বা অ্যাডভেঞ্চার হেলমেট

বাইক শুধু যোগাযোগের বাহন নয়, অ্যাডভেঞ্চারেরও অংশ। দেশের নানা প্রান্তে কঠিন রাস্তায় বাইক নিয়ে ভ্রমণ করাও কারও কারও কাছে চ্যালেঞ্জ। যারা দূর-দূরান্তে, কঠিন রাস্তায় বাইক নিয়ে যান, তাদের নিরাপত্তার দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হয়। সে জন্যই তৈরি করা হয়েছে অ্যাডভেঞ্চার হেলমেট। এ ধরনের হেলমেটের মাথায় ছাউনি বা প্লাস্টিকের একটি অংশ থাকে, যা বাইক চালানোর সময়ে মুখে রোদ পড়া আটকায়। আচমকা যাতে কোনো ডালপালা বা টুকরো কিছু ছিটকে না আসে সে জন্য বর্ম হিসাবে কাজ করে। ফুল ফেস হেলমেট বা পুরো মুখের হেলমেটের তুলনায় এর চোখ ঢাকার ফাইবারের অংশটি বেশ চওড়া হয়। বাইক আরোহীর আঁকাবাঁকা রাস্তায় আশপাশ দেখতে সুবিধা হয়।

দুর্গম রাস্তায় বাইক চালানোর জন্য বিশেষ ধরনের নকশার হেলমেট তৈরি হয়। এগুলি হালকা কিন্তু মজবুত।

অফ রোড হেলমেট
রুক্ষ, সর্পিলাকার পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াতের জন্য বিশেষ ধরনের হেলমেট নকশা করা হয়। এই ধরনের হেলমেটে থুতনির অংশটি একটু সামনের দিকে এগোনো থাকে, যেন আরোহীর শ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধা না হয়। এছাড়া চোখে যাতে রোদ না পড়ে, সে জন্য হেলমেটের সামনের অংশটি একটু ছুঁচলো হয়, থাকে বিশেষ বর্ম।