থাইল্যান্ড ভ্রমণে বেশিরভাগ পর্যটক বিমান বা বাস বেছে নিলেও দেশটিকে কাছ থেকে দেখার অন্যতম সেরা উপায় হতে পারে ট্রেনযাত্রা। শত বছরেরও বেশি পুরোনো রেল নেটওয়ার্ক, ঐতিহাসিক রুট, পাহাড়, নদী, উপকূল, গ্রামাঞ্চল এবং ব্যস্ত বাজারের মধ্য দিয়ে চলা ট্রেন ভ্রমণ পর্যটকদের জন্য এনে দেয় এক অনন্য অভিজ্ঞতা। আরামদায়ক স্লিপার ট্রেন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বিলাসবহুল রেলসেবা পর্যন্ত, থাইল্যান্ডে রয়েছে নানা ধরনের দর্শনীয় রেলপথ।

১. বাজারের মাঝখান দিয়ে ছুটে চলা মায়েকলং রেলপথ

ব্যাংককের থনবুরি থেকে সামুত সঙখ্রাম পর্যন্ত এই রুটটি থাইল্যান্ডের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ট্রেনযাত্রার একটি। পথে স্থানীয় বসতি, মন্দির, ধানক্ষেত ও জলাভূমির মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। তবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ গন্তব্যের মায়েকলং রেলওয়ে মার্কেট, যেখানে ট্রেন আসার সময় রেললাইনের ওপর বসানো দোকানপাট মুহূর্তের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ট্রেন চলে গেলে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

২. ইতিহাস ও প্রকৃতির মিলন, ডেথ রেলওয়ে

থনবুরি থেকে নাম টক পর্যন্ত চলা এই ঐতিহাসিক রেলপথটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত হয়। জাপানি দখলদার বাহিনীর অধীনে যুদ্ধবন্দী ও জোরপূর্বক নিয়োগ করা শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রমে নির্মিত এ পথে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বর্তমানে রুটটি তার সবুজ পাহাড়, নদী, কাঠের সেতু এবং বিখ্যাত 'রিভার কোয়াই' সেতুর জন্য পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।

৩. স্লিপার ট্রেনে ব্যাংকক থেকে চিয়াং মাই

উত্তর থাইল্যান্ডের চিয়াং মাইগামী রাতের ট্রেন দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণপথ। সন্ধ্যায় যাত্রা শুরু করে সকালে ঘুম ভাঙে পাহাড়, বনাঞ্চল ও গ্রামীণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে। বিশেষ করে দোই খুন তান জাতীয় উদ্যানের মধ্য দিয়ে চলার সময় জানালার বাইরের দৃশ্য যাত্রীদের মুগ্ধ করে।

৪. সমুদ্রতীরের শহর হুয়া হিনের পথে

ব্যাংকক থেকে হুয়া হিনের রেলপথে লবণক্ষেত, নারিকেল বাগান ও উপকূলীয় প্রাকৃতিক দৃশ্য ভ্রমণকে করে তোলে উপভোগ্য। গন্তব্যের ঐতিহাসিক হুয়া হিন রেলস্টেশন, যা ১৯২৬ সালে নির্মিত, থাইল্যান্ডের অন্যতম সুন্দর রেলস্টেশন হিসেবে পরিচিত এবং শহরের অন্যতম দর্শনীয় স্থাপনা।

৫. ট্রেনে মেকং পেরিয়ে লাওসে

ব্যাংকক থেকে থাইল্যান্ডের সীমান্ত শহর নং খাই হয়ে ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ অতিক্রম করে ট্রেনে পৌঁছানো যায় লাওসের থানালেং স্টেশনে। রাতের স্লিপার ট্রেনে যাত্রার পর সকালে উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চল ও ধানক্ষেতের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সেখান থেকে সড়কপথে সহজেই লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনে যাওয়া সম্ভব।

৬. বিলাসবহুল ট্রেনে ব্যাংকক থেকে সিঙ্গাপুর

যারা বিলাসবহুল রেলভ্রমণের অভিজ্ঞতা চান, তাদের জন্য রয়েছে ইস্টার্ন অ্যান্ড ওরিয়েন্টাল এক্সপ্রেস। চার দিন ও তিন রাতের এই আন্তর্জাতিক যাত্রায় ব্যক্তিগত কেবিন, উন্নতমানের খাবার এবং থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন ভ্রমণসূচি অন্তর্ভুক্ত থাকে। ব্যাংকক ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে পরিচালিত এই ট্রেন বিশ্বের অন্যতম অভিজাত রেলভ্রমণ হিসেবে পরিচিত।

ভ্রমণ টিপস

থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে আগাম টিকিট কেনা যায়। তবে ব্যাংককে অবস্থান করলে সরাসরি স্টেশন থেকে টিকিট সংগ্রহ করাই তুলনামূলক সহজ। জনপ্রিয় রুট, বিশেষ করে চিয়াং মাইগামী স্লিপার ট্রেনের টিকিট আগে থেকেই বুক করা ভালো।