নদীভাঙন প্রতিরোধে নির্মিত একটি অবকাঠামো ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে সম্ভাবনাময় ভ্রমণ গন্তব্যে। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদে নির্মিত ৫০০ মিটার দীর্ঘ ক্রস বাঁধকে ঘিরে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। নদীর বিস্তৃত জলরাশি, চরাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক বধ্যভূমি এবং তিস্তামুখ ফেরিঘাট মিলিয়ে এলাকাটি স্থানীয় পর্যটনের নতুন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদে বধ্যভূমি রক্ষা প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ক্রস বাঁধটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০০ মিটার, প্রস্থ ১০০ ফুট এবং মাটির তলদেশ থেকে উচ্চতা প্রায় ৩৫ ফুট। নদীর বুক চিরে গড়ে ওঠা এই বাঁধে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সের মানুষের ভিড় দেখা যায়।

ক্রস বাঁধের পাশেই রয়েছে ঐতিহাসিক ১৯৭১ সালের বধ্যভূমি, তিস্তামুখ রেলওয়ে ফেরিঘাট, বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল এবং ব্রহ্মপুত্রের মনোরম নদীতীর। নদীভাঙন প্রতিরোধে নীলকুঠি এলাকা থেকে বধ্যভূমি পর্যন্ত নদীতীরে সিসি ব্লক বসানো হয়েছে। দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য কয়েকটি বেঞ্চও নির্মাণ করা হয়েছে।

নদীতে নৌভ্রমণ শেষে ক্রস বাঁধে ঘুরতে আসা সদর উপজেলার ধানঘড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিক রহমান বলেন, "ব্রহ্মপুত্রের তীর আর চরাঞ্চলে ঘোরার অনুভূতি আলাদা। নদীর বুকের ওপর নির্মিত এই বাঁধ আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।"

রাজশাহী থেকে ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসা আফরুজা আক্তার বলেন, "ব্রহ্মপুত্রের নির্মল পরিবেশ আর খোলা বাতাস উপভোগ করতে এখানে এসেছি।"

স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলামের মতে, এলাকায় দর্শনীয় স্থানের সংখ্যা কম। তবে ক্রস বাঁধ নির্মাণের পর দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসতে শুরু করেছেন, যা ভবিষ্যতে স্থানীয় পর্যটন বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে।

স্কুলশিক্ষক সামিউল হক বলেন, পর্যটন গড়ে উঠলে স্থানীয়দের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসা, নৌভ্রমণ, খাবারের দোকানসহ বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, ফুলছড়ি উপজেলাকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষার প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই ক্রস বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য নদীর স্রোতের গতিপথ পরিবর্তন করে ভাঙন কমানো। পাশাপাশি বাঁধের দুই পাশে নতুন চর ও আবাদযোগ্য জমি তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে।

ফুলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হান্নান মন্ডল বলেন, বাঁধটি নির্মাণের ফলে গণকবর, পুরোনো ফুলছড়িহাটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পাবে। একই সঙ্গে এলাকাটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তথ্যবক্স

যা জানা জরুরি

অবস্থান: গজারিয়া ইউনিয়ন, ফুলছড়ি উপজেলা, গাইবান্ধা

নদী: ব্রহ্মপুত্র

ক্রস বাঁধের দৈর্ঘ্য: প্রায় ৫০০ মিটার

প্রস্থ: ১০০ ফুট

উচ্চতা: প্রায় ৩৫ ফুট

কাছাকাছি আকর্ষণ: ১৯৭১ সালের বধ্যভূমি, তিস্তামুখ ফেরিঘাট, চরাঞ্চল ও ব্রহ্মপুত্র নদীতীর