টানা বৃষ্টি, ঘন মেঘ আর উত্তাল সাগরের মধ্যেও দেশের প্রধান সমুদ্র পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে পর্যটকদের উপস্থিতি কমেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রেখেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ অবস্থায় পর্যটকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আকাশে এখনও ঘন মেঘ রয়েছে এবং দিনের বাকি সময়েও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বঙ্গোপসাগরের ওপর অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে কক্সবাজার উপকূলে সাগর উত্তাল রয়েছে। বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে সৈকতে। বর্ষাকালের এই প্রাকৃতিক পরিবেশ অনেক দর্শনার্থীর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠলেও সমুদ্রের পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পর্যটকদের অনেকে নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে উত্তাল ঢেউ উপভোগ করছেন। অনেকেই বর্ষার সমুদ্রের সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করছেন ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে।

বর্তমান আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে স্থানীয় সতর্ক সংকেত ৩ বহাল রাখতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে ঝুঁকি না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন লাইফগার্ড সদস্যরা। তারা মাইকিং করে পর্যটকদের গভীর পানিতে নামতে নিরুৎসাহিত করছেন। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ তিনটি স্থানে লাল পতাকা টানিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

লাইফগার্ড আবদুস সালাম বলেন, বর্ষার সময় উত্তাল সমুদ্র দেখতে আকর্ষণীয় হলেও এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই লাল পতাকা ও সতর্ক সংকেত মেনে নিরাপদ দূরত্ব থেকে সমুদ্র উপভোগ করার আহ্বান জানান তিনি।

২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাত: ৮১ মিলিমিটার
সমুদ্রের অবস্থা: উত্তাল
সতর্ক সংকেত: স্থানীয় সতর্ক সংকেত ৩ বহাল
পরামর্শ: গভীর পানিতে না নামা এবং লাল পতাকার নির্দেশনা মেনে চলা।