টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার সব ঝরনায় পর্যটকদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। দুর্ঘটনা এড়াতে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। বর্ষাকালে ঝরনাগুলোতে পানির প্রবাহ ও স্রোত দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বারৈয়ারঢালা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ঝরনাগুলোর ইজারাদারদের সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মিরসরাইয়ের ঝরনাগুলোর ইজারাদার প্রতিষ্ঠান 'থ্রি বি'-এর স্বত্বাধিকারী ওহিদুল ইসলাম জানান, বন বিভাগের নির্দেশনা পাওয়ার পর তাদের ইজারাভুক্ত সব ঝরনায় পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে কর্মীরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন।
রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, ভারী বৃষ্টির সময় পাহাড়ি ঢলে ঝিরিপথে তীব্র স্রোত তৈরি হয়। এ সময়ে অনেক পর্যটক ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন না থাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন। তাই ১০ জুলাই পর্যন্ত সব ঝরনায় ভ্রমণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ভারী বর্ষণের কারণে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র এবং রাঙামাটির সাজেক পর্যটনকেন্দ্রেও ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন প্রায় ২ হাজার ৯৩৫ একর আয়তনের বারৈয়ারঢালা জাতীয় উদ্যানে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, রূপসী, সোনাইছড়ি ও ভাওয়াছড়াসহ কয়েকটি জনপ্রিয় ঝরনা রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে বিশেষ করে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া ও রূপসী ঝরনায় সারা বছর পর্যটকদের ভিড় থাকে। বর্ষাকালে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দর্শনার্থীর সংখ্যাও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সরকারি ছুটি ও উৎসবের দিনে শুধু খৈয়াছড়া ঝরনাতেই দুই হাজারের বেশি পর্যটক ভ্রমণে আসেন।
বন বিভাগ ২০১০ সাল থেকে ঝরনাগুলোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনার জন্য ইজারা দিয়ে আসছে। চলতি বছরের ২৩ মে থেকে আগামী বছরের ২৪ মে পর্যন্ত এক বছরের জন্য ৪০ লাখ ১০০ টাকায় ঝরনাগুলোর ইজারা পেয়েছে 'থ্রি বি'। ইজারার শর্ত অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশমূল্য ২০ টাকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১০ টাকা।
বর্ষায় কেন বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি
মিরসরাইয়ের ঝরনাগুলোতে পৌঁছাতে পাথুরে ঝিরিপথ ও পাহাড়ি পথ অতিক্রম করতে হয়। বর্ষায় এসব পথ পিচ্ছিল হয়ে যায় এবং আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরে মিরসরাইয়ের বিভিন্ন ঝরনায় ৩৭টি ছোট-বড় দুর্ঘটনায় সাতজন পর্যটক নিহত এবং অন্তত ৫১ জন আহত হয়েছেন।
পর্যটকদের জন্য সতর্কতা
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ঝরনা ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে বন বিভাগ। পাশাপাশি পিচ্ছিল পাথর ও ডুবোগর্ত থেকে সতর্ক থাকা, ঝরনার চূড়ায় না ওঠা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সেলফি না তোলা, স্থানীয় গাইড সঙ্গে রাখা এবং বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর: ১০ জুলাই পর্যন্ত
আওতাভুক্ত এলাকা: মিরসরাইয়ের সব ঝরনা
জনপ্রিয় ঝরনা: খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, রূপসী
গত ৬ বছরের দুর্ঘটনা: ৩৭টি
নিহত: ৭ জন
আহত: অন্তত ৫১ জন