টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের স্বীকৃতি পেয়েছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন।
এই তালিকা প্রকাশ করেছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইউআইইউ), যা দ্য ইকোনমিস্টের সহযোগী গবেষণা প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের ১৭৩টি শহরকে শিক্ষা, স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো, সংস্কৃতি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন সূচকে মূল্যায়ন করে এই র্যাঙ্কিং তৈরি করা হয়েছে।
কোপেনহেগেন স্থিতিশীলতা, অবকাঠামো এবং শিক্ষা—এই তিনটি বিভাগে পূর্ণ নম্বর পেয়েছে। উন্নত জনসেবা, নিরাপদ পরিবেশ, শক্তিশালী অবকাঠামো এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিবেশের সমন্বয়ই শহরটিকে আবার শীর্ষে নিয়ে এসেছে।
একসময় টানা তিন বছর বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের শিরোপা ধরে রাখা অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা এবারও আছে দ্বিতীয় স্থানে।
তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন, যা গত বছরের তুলনায় এক ধাপ এগিয়েছে। একই দেশের সিডনি দুই ধাপ এগিয়ে চতুর্থ স্থানে জায়গা করে নিয়েছে।
গত বছর ভিয়েনার সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে থাকা সুইজারল্যান্ডের জুরিখ এবার তিন ধাপ নেমে পঞ্চম হয়েছে। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে একই দেশের জেনেভা। সপ্তম স্থানে জাপানের ওসাকা, অষ্টমে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড, নবমে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার এবং দশমে রয়েছে জাপানের টোকিও।
যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোর মধ্যে হনোলুলু সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও দুই ধাপ পিছিয়ে এবার ২৫তম স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে অপরাধের হার কমে যাওয়ায় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির কারণে নিউইয়র্ক তিন ধাপ এগিয়ে ৬৬তম স্থানে উঠেছে।
এবারের তালিকায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি শহরের অবস্থান খারাপ হয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের শহরগুলোর স্থিতিশীলতা সূচকের নম্বর কমেছে। সবচেয়ে বেশি পিছিয়েছে ওমানের মাসকাট, যা ১৪ ধাপ নেমে ১২৩তম স্থানে রয়েছে। কুয়েত সিটি ১২ ধাপ পিছিয়ে ১০৫তম স্থানে নেমেছে।
অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবায় উন্নতির কারণে এশিয়ার গড় স্কোর বেড়েছে। বিশেষ করে চীনের বিভিন্ন শহরে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে তাদের অবস্থান আগের তুলনায় ভালো হয়েছে।
তালিকার একেবারে নিচে রয়েছে সিরিয়ার দামেস্ক, যা এখনও বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহর হিসেবে বিবেচিত। যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের তেহরান নেমে এসেছে ১৬৪তম স্থানে এবং ইউক্রেনের কিয়েভ রয়েছে ১৬৬তম স্থানে।
ইআইইউয়ের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার অবনতি এবং এশিয়ায় স্বাস্থ্যসেবার উন্নতির কারণে সামগ্রিকভাবে বিশ্বের গড় বাসযোগ্যতার স্কোর গত বছরের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
২০২৬ সালের বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য ১০ শহর
১. কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক
২. ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া
৩. মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া
৪. সিডনি, অস্ট্রেলিয়া
৫. জুরিখ, সুইজারল্যান্ড
৬. জেনেভা, সুইজারল্যান্ড
৭. ওসাকা, জাপান
৮. অ্যাডিলেড, অস্ট্রেলিয়া
৯. ভ্যাঙ্কুভার, কানাডা
১০. টোকিও, জাপান