বিমানে ভ্রমণের সময় উড্ডয়ন বা অবতরণের আগে কেবিনের আলো হঠাৎ কমিয়ে দেওয়া অনেক যাত্রীর কাছেই কৌতূহলের বিষয়। এটি কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা পরিবেশ তৈরির কৌশল নয়। বরং আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা বিধির গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার উদ্দেশ্য জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের দ্রুত ও নিরাপদে বিমান ত্যাগে সহায়তা করা।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, উড্ডয়ন ও অবতরণের সময়কে ফ্লাইটের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, পরিসংখ্যান অনুযায়ী অধিকাংশ বিমান দুর্ঘটনা বা গুরুতর ঘটনা এই দুই পর্যায়েই ঘটে।

এ কারণে উড্ডয়ন ও অবতরণের আগে কেবিনের আলো কমিয়ে দেওয়া হয়, যাতে যাত্রীদের চোখ ধীরে ধীরে বাইরের স্বাভাবিক আলো বা অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। মানবদেহের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী, উজ্জ্বল আলো থেকে অন্ধকারে গেলে চোখের অভিযোজনে কিছু সময় লাগে। কিন্তু জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিটি সেকেন্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চোখ আগে থেকেই বাইরের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারলে জরুরি অবস্থায় যাত্রীরা দ্রুত নির্গমনপথের নির্দেশনা, জরুরি আলোকিত পথ এবং কেবিন ক্রুদের নির্দেশ স্পষ্টভাবে দেখতে পারেন। একই সঙ্গে জানালার বাইরে রানওয়ে বা আশপাশের পরিবেশও সহজে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়, যা কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করতে সহায়ক হতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন বিমান সংস্থাও এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করে। আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুরো বিমান খালি করার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হয়।

এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (ইএএসএ)-এর বিধিমালা অনুযায়ী, আপৎকালীন অবস্থায় সর্বোচ্চ ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে যাত্রীদের বিমান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে। সেই লক্ষ্য পূরণে কেবিনের আলো কমিয়ে রাখার মতো ছোট একটি পদক্ষেপও যাত্রীদের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

কেবিনের আলো কমানো হয় নিরাপত্তার স্বার্থে।

উড্ডয়ন ও অবতরণ ফ্লাইটের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ধাপ।

চোখকে বাইরের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

জরুরি অবস্থায় দ্রুত নির্গমনপথ শনাক্ত করতে এটি সহায়ক।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিধিতে ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে বিমান খালি করার সক্ষমতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা রয়েছে।