ভ্রমণের নতুন এক প্রবণতার নাম 'ননাম্যাক্সিং'। এতে তরুণ পর্যটকেরা শুধু কোনো গন্তব্য ঘুরে দেখতেই যান না, বরং স্থানীয় দাদি বা বয়স্ক নারীদের কাছ থেকে সেই দেশের সংস্কৃতি, রান্না, ঐতিহ্য ও জীবনধারা শেখার অভিজ্ঞতা নিতে আগ্রহী হচ্ছেন। 
ইতালিতে কোনো দাদির সঙ্গে পাস্তা বানানো, জাপানে বয়স্ক নারীকে গাইড হিসেবে নিয়ে শহর ঘোরা কিংবা থাইল্যান্ডে প্রবীণ প্রশিক্ষকের কাছে ঐতিহ্যবাহী থাই ম্যাসাজ শেখা— এসব অভিজ্ঞতা এখন বিশেষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক চাপ ও একাকীত্ব বাড়ার কারণে জেন-জি ও মিলেনিয়াল প্রজন্মের অনেকেই এমন অভিজ্ঞতার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। টিকটকে ‘#Grandmacore’ হ্যাশট্যাগ শত কোটি নয়, প্রায় ৮০ কোটি ভিউ পেয়েছে। 
ভ্রমণবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘গেটইয়োরগাইড’ এক জরিপে দেখিয়েছে, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ৭৬ শতাংশ জেন-জি ভ্রমণকারী দাদিদের অনুপ্রেরণায় পরিচালিত কোনো ভ্রমণ কার্যক্রমে অংশ নিতে আগ্রহী।

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দা ব্রিটানি ডিয়েগো ইতালির রোমের কাছে এক ইতালীয় দাদির বাড়িতে পাস্তা তৈরির ক্লাস করেছিলেন। তার ভাষায়, এটি ছিল কোনো সাধারণ রান্নার ক্লাস নয়; বরং পরিবারের সদস্যের মতো আন্তরিক আতিথেয়তা পাওয়ার অভিজ্ঞতা। ভাষা ভিন্ন হলেও হাসি, ইশারা ও একসঙ্গে রান্নার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সহজেই বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।

একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ঐতিহ্যবাহী থাই ম্যাসাজ শেখা শিক্ষার্থীদেরও। প্রবীণ প্রশিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, ধৈর্য ও স্নেহপূর্ণ আচরণ শেখার পরিবেশকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তোলে। ব্যস্ত নগরের কোলাহলের মাঝেও তাঁদের উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করে শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী পরিবেশ।

জাপানেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে 'রেন্ট আ গ্র্যানি' বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দাদি ভাড়া নেওয়ার সেবা। এসব দাদি পর্যটকদের স্থানীয় খাবার রান্না শেখানো, দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে দেখানো বা গল্পের মাধ্যমে স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। অনেক পর্যটকের মতে, এতে ভ্রমণ শুধু দর্শনীয় স্থান দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কও তৈরি হয়।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরনের আন্তঃপ্রজন্মের যোগাযোগ উভয় পক্ষের জন্যই উপকারী। তরুণরা যেমন প্রবীণদের জীবনজ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারেন, তেমনি প্রবীণরাও নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পেয়ে মানসিকভাবে ভালো থাকেন। গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণদের সঙ্গে সময় কাটানো প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নত করতেও সহায়ক।

ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে অনেকেই এখন এমন অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, যেখানে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানো, গল্প শোনা ও ঐতিহ্য শেখার সুযোগ থাকে। আর সেই কারণেই 'ননাম্যাক্সিং' বা দাদিদের সঙ্গে ভ্রমণ এখন বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।