সমুদ্রের ওপর পাখির মতো উড়ে বেড়ানোর রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার নাম প্যারাসেইলিং। একটি বিশেষ প্যারাসুটের সঙ্গে হারনেসে বেঁধে পর্যটককে স্পিডবোটের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এরপর নৌকার গতির কারণে প্যারাসুট বাতাসে ভেসে ওঠে এবং পর্যটক কয়েকশ ফুট ওপরে উঠে চারপাশের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। তবে এই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা উপভোগের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।
প্রথমত, অনুমোদিত ও অভিজ্ঞ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সেবা নেওয়া উচিত। প্যারাসেইলিংয়ের সরঞ্জাম নিয়মিত পরীক্ষা করা হয় কি না, প্রশিক্ষিত কর্মী আছে কি না এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা কেমন—এসব বিষয় আগে নিশ্চিত করুন।
দ্বিতীয়ত, লাইফ জ্যাকেট ও হারনেস সঠিকভাবে পরা হয়েছে কি না, তা ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। হারনেস ঢিলা বা অস্বস্তিকর মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে কর্মীদের জানান। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয়।
তৃতীয়ত, আবহাওয়ার দিকে নজর রাখুন। প্রবল বাতাস, বৃষ্টি, বজ্রপাত বা উত্তাল সমুদ্রে প্যারাসেইলিং করা ঝুঁকিপূর্ণ। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে ভ্রমণ পিছিয়ে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
চতুর্থত, পরিচালকদের দেওয়া সব নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং মেনে চলুন। উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় কী করতে হবে, হাত কোথায় রাখতে হবে কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে—এসব আগে থেকেই জেনে নিন।
এ ছাড়া হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, গুরুতর কোমরের সমস্যা বা গর্ভাবস্থায় প্যারাসেইলিং এড়িয়ে চলা উচিত। ছোট শিশু বা নির্ধারিত ওজনসীমার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও অনেক প্রতিষ্ঠান এই কার্যক্রমে অংশ নিতে দেয় না।
প্যারাসেইলিংয়ের সময় ক্যামেরা বা মোবাইল ফোন হাতে ধরে রাখার পরিবর্তে নিরাপদ স্ট্র্যাপ ব্যবহার করুন। অন্যথায় সেগুলো সমুদ্রে পড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে আরামদায়ক পোশাক পরুন এবং ঢিলেঢালা বা সহজে খুলে যেতে পারে এমন জিনিসপত্র এড়িয়ে চলুন।
সবশেষে মনে রাখবেন, রোমাঞ্চ উপভোগের চেয়ে নিরাপত্তা সবসময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কারণে যদি আপনার অস্বস্তি লাগে, ভয় হয় বা নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়, তাহলে প্যারাসেইলিং না করাই ভালো। সঠিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা এবং দায়িত্বশীল পরিচালকের তত্ত্বাবধানে প্যারাসেইলিং হতে পারে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ও নিরাপদ অভিজ্ঞতা।