দেশ-বিদেশে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন এমন মানুষের জন্য ঢাকায় চলছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার। আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত তিন দিনের এ মেলায় হোটেল ও রিসোর্টে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ এবং বিমান টিকিটে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি ট্যুর প্যাকেজ, বিনোদনকেন্দ্র ও অন্যান্য ভ্রমণসেবায়ও রয়েছে বিভিন্ন অফার।
১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া মেলা চলবে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। আয়োজক পর্যটনবিষয়ক সাময়িকী পর্যটন বিচিত্রা। এবারের মেলায় ১০ দেশের দুই শতাধিক পর্যটন প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০০টি স্টলে অংশ নিয়েছে।
হোটেল-রিসোর্টে ছাড়
মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। কক্সবাজারের হোটেল সি পার্ল দিয়েছে ‘এক রাতের মূল্যে তিন রাত’ থাকার অফার। হোটেলটির বিভিন্ন শ্রেণির কক্ষের এক রাতের ভাড়া ১৯ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন মেলা উপলক্ষে তাদের ২৫টি হোটেল ও মোটেলে ২০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে। সুন্দরবনের মায়াবন ইকো রিসোর্ট সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকার বিভিন্ন প্যাকেজে দিচ্ছে ২০ শতাংশ ছাড়।
বিমান টিকিটেও সুবিধা
দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন গন্তব্যের টিকিটে ২০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে এয়ার অ্যাস্ট্রা। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুরের টিকিটে এ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশ বিমান ব্যাংকক, কলকাতা, করাচি ও দিল্লিসহ সাতটি আন্তর্জাতিক গন্তব্যের টিকিটে ১৫ শতাংশ ছাড় ঘোষণা করেছে।
বিদেশ ভ্রমণের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন প্যাকেজ। কুয়ালালামপুরে দুই রাত তিন দিনের প্যাকেজের দাম টিকিট ছাড়া ১৫ হাজার টাকা থেকে শুরু। চার রাতের প্যাকেজ ২৮ হাজার টাকা থেকে। টিকিটসহ কাঠমান্ডুর পাঁচ রাতের প্যাকেজে জনপ্রতি খরচ ৬৪ হাজার টাকা, যার মধ্যে খাবারও রয়েছে।
বিনোদনেও অফার
মেলায় ফ্যান্টাসি কিংডম ৫০ শতাংশ ছাড়ে ৫০০ টাকায় প্রবেশ ও ১২টি রাইড ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। একই মূল্যে প্রবেশের পাশাপাশি ওয়াটার কিংডম ব্যবহারের আরেকটি অফারও রয়েছে।
মেলায় বিদেশে চিকিৎসা, নির্মাণাধীন হোটেলে মালিকানা বুকিংসহ বিভিন্ন পর্যটনসংশ্লিষ্ট সেবার প্যাকেজও তুলে ধরা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দেশের পর্যটন অবকাঠামো, সেবা, গন্তব্য ও পর্যটন পণ্যের উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি খাত, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি পর্যটন খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, দক্ষ মানবসম্পদ এবং সম্ভাবনাময় গন্তব্যের পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।