আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী জুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ। বরাবরের মতো এবারও কয়েক কোটি মানুষ নাড়ির টানে পাড়ি জমাবেন শেকড়ের সন্ধানে। দীর্ঘ ছুটি (১৮ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সম্ভাব্য ৭ দিন) পাওয়ায় এবার ঘরে ফেরা মানুষের চাপ গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছে প্রশাসন। তবে এই বিপুল জনস্রোতের ঈদ যাত্রা যেন ভোগান্তিময় না হয়, সে জন্য সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

শেকড়ের টানে মহাপ্রস্থান
ঢাকার বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে হাজারো বিড়ম্বনা সয়েও মানুষ ছুটছে বাড়ির পথে। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া এই বিশাল যাত্রা সামলানো কঠিন। তাই যাত্রীদের আগেভাগেই টিকিট সংগ্রহ এবং যাতায়াতের সময়সূচি নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ নজরে শিশু, নারী ও বয়স্করা
এবারের ঈদ যাত্রায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীগোষ্ঠীর ওপর। অতিরিক্ত ভিড় ও গরমে যেন শিশু, নারী, অন্তঃসত্ত্বা মা এবং প্রবীণদের কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য বিশেষ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:

আরামদায়ক আসন: অন্তঃসত্ত্বা ও বয়স্কদের জন্য বাসের সামনের সারির আসন বা ট্রেনের নিচের বার্থ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জরুরি কিট: শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার, পানি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সাথে রাখতে হবে।

নিরাপত্তা ও সহায়তা: নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাস টার্মিনাল ও স্টেশনগুলোতে বিশেষ পুলিশ বুথ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রতিটি স্টেশনে হুইলচেয়ার ও স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োজিত থাকবে।

মহাসড়কে কড়া নজরদারি
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মহাসড়কের ২০৭টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে এবার বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনকারী বাসের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে চিরুনি অভিযান। বিশেষ করে ট্রেনের ছাদ বা লঞ্চের অতিরিক্ত যাত্রী হওয়া থেকে বিরত থাকতে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

নিরাপদ যাত্রায় কিছু জরুরি পরামর্শ

যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি বিষয়ে নজর দিতে বলেছেন:

১. সময় ব্যবস্থাপনা: যানজট এড়াতে শেষ মুহূর্তের অপেক্ষা না করে হাতে সময় নিয়ে রওনা দিন।

২. নগদ টাকা ও অলঙ্কার: ভিড়ের মধ্যে অতিরিক্ত নগদ টাকা বা দামী গয়না সাথে না রাখাই নিরাপদ।

৩. অপরিচিত খাবার: যাত্রাপথে অপরিচিত কারো দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।

৪. জরুরি নম্বর: যেকোনো সমস্যায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা বিআইডব্লিউটিএ-এর হটলাইন ১৬১১৩ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।

শেকড়ের টানে এই যাত্রা যেন কেবলই আনন্দের হয়, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা যেন উৎসবের রঙ ফিকে না করে—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।