সবুজ প্রকৃতির নিস্তব্ধতার মধ্যে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এক অনন্য স্থাপত্য। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন লাল ইটের জ্যামিতিক বিন্যাস মাটির বুক চিরে উঠে এসেছে। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়ায় বালাসীঘাট সড়কের পাশে অবস্থিত এই স্থাপনাটি এখন দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

সাত বিঘা জমির ওপর নির্মিত ‘ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার’ মূলত একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্থাপনার কাজ শেষ হয় ২০১২ সালের নভেম্বরে। প্রখ্যাত স্থপতি কাশেফ মাহমুদ চৌধুরীর নকশায় গড়ে ওঠা এই ভবন প্রাচীন স্থাপত্যধারার অনুপ্রেরণায় নির্মিত। পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক এই নকশার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও অর্জন করেন।

প্রবেশমুখেই চোখে পড়ে লাল ইটের নিখুঁত গাঁথুনি, খোলা আঙিনা এবং ছোট দুটি জলাধার। পুরো স্থাপনাটি মাটির নিচে হলেও এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস সহজেই প্রবেশ করতে পারে। ফলে গরমে শীতল এবং শীতে আরামদায়ক পরিবেশ বজায় থাকে, যেখানে এয়ার কন্ডিশনের প্রয়োজন পড়ে না।

সেন্টারে রয়েছে দুটি প্রশিক্ষণ কক্ষ, দুটি প্যাভিলিয়ন এবং ২৪টি আবাসিক কক্ষ। এখানে একসঙ্গে ৪৮ জন থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি ৭০ জনের খাবারের আয়োজন এবং ইনডোর গেমসের সুবিধাও আছে। তবে এখানে অবস্থান করতে হলে আগে থেকেই কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়।

স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন এখানে। কেউ দিনভ্রমণে আসেন, আবার কেউ রাত্রিযাপনও করেন। ফলে প্রায় সময়ই এখানে একটি প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি হয়, যা অনেকটা মেলার আবহের মতো।

এই স্থাপনার আরেকটি বিশেষ দিক হলো পাঁচটি জলাধার বা ওয়াটার বডি। এগুলো শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না, বরং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থাপনাটির নকশায় প্রতিটি উপাদানই পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

দর্শনার্থীদের মতে, এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং একটি অভিজ্ঞতা। চারপাশের গাছপালা, ঔষধি ও ফুলের বাগান সব মিলিয়ে জায়গাটি হয়ে উঠেছে এক প্রশান্তির ঠিকানা। উত্তরাঞ্চলে এমন স্থাপনা খুব কম থাকায় এর আকর্ষণ আরও বেড়েছে।