জলবায়ু পরিবর্তন, কার্বন নিঃসরণ আর পরিবেশ ধ্বংস নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে একটি দেশের মোট বনভূমির পরিমাণ এখন পরিবেশগত সক্ষমতা মাপার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক। ২০২৬ সালে বিশ্বের যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি বনভূমি রয়েছে, সেই তালিকা প্রকাশ করেছে World Population Review।
ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু ও দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ নীতির কারণে এই দেশগুলো এখনো পৃথিবীর বড় অংশের বনাঞ্চল ধরে রেখেছে। প্রশ্ন হলো—এই তালিকায় ভারতের অবস্থান কোথায়? চলুন দেখে নেওয়া যাক শীর্ষ ১০ দেশের চিত্র।
রাশিয়া
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বনভূমি রয়েছে রাশিয়ায়। প্রায় ৮১৫,৩১২ বর্গকিলোমিটার বনাঞ্চল দেশটিকে এই তালিকার শীর্ষে রেখেছে। সাইবেরিয়াজুড়ে বিস্তৃত তাইগা বা বোরিয়াল বন পৃথিবীর অন্যতম বড় কার্বন ভাণ্ডার। তুলনামূলকভাবে কম জনবসতি হলেও বৈশ্বিক জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার বনাঞ্চলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রাজিল
প্রায় ৪৯৬,৬২০ বর্গকিলোমিটার বনভূমি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাজিল। অ্যামাজন বনভূমির সবচেয়ে বড় অংশ এখানেই অবস্থিত, যা ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ নামে পরিচিত। বিপুল জীববৈচিত্র্য ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল হলেও বন উজাড়ের ঝুঁকিও এখানে সবচেয়ে বেশি।
কানাডা
কানাডার বনভূমির আয়তন প্রায় ৩৪৬,৯২৮ বর্গকিলোমিটার। দেশটির বিস্তীর্ণ ও জনবিরল অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা বোরিয়াল বন উত্তর আমেরিকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখে। এই বনাঞ্চল মুস, ভালুক ও নেকড়ের মতো প্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়।
যুক্তরাষ্ট্র
প্রায় ৩০৯,৭৯৫ বর্গকিলোমিটার বনভূমি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে চতুর্থ স্থানে। আলাস্কার বোরিয়াল বন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নাতিশীতোষ্ণ রেইনফরেস্ট এবং পূর্বাঞ্চলের পর্ণমোচী বন—বৈচিত্র্যই যুক্তরাষ্ট্রের বনভূমির মূল শক্তি।
চীন
চীনের মোট বনভূমি প্রায় ২১৯,৯৭৮ বর্গকিলোমিটার। অতীতে বন ধ্বংসের হার বেশি থাকলেও সাম্প্রতিক দশকে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও পুনঃবনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে।
অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার বনভূমির আয়তন ১৩৪,০০৫ বর্গকিলোমিটার। ইউক্যালিপটাস বন ও উত্তরের উষ্ণমণ্ডলীয় বন এখানকার প্রধান বৈশিষ্ট্য। আগুন সহনশীল হলেও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দাবানল অস্ট্রেলিয়ার বনাঞ্চলের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
প্রায় ১২৬,১৫৫ বর্গকিলোমিটার বনভূমি নিয়ে দেশটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উষ্ণমণ্ডলীয় রেইনফরেস্টের অধিকারী। কঙ্গো বেসিন বিশ্বের অন্যতম বড় কার্বন সিঙ্ক এবং জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ার বনভূমি প্রায় ৯২,১৩৩ বর্গকিলোমিটার। সুমাত্রা, বোর্নিও ও পাপুয়া দ্বীপজুড়ে বিস্তৃত এই বনাঞ্চলে ওরাংওটাং ও সুমাত্রান টাইগারের মতো বিপন্ন প্রাণী বাস করে। তবে ভূমি ব্যবহার পরিবর্তনের কারণে বন উজাড়ের ঝুঁকিও বেশি।
পেরু
৭২,৩৩০ বর্গকিলোমিটার বনভূমি নিয়ে পেরু দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম বনসমৃদ্ধ দেশ। অ্যামাজন অববাহিকায় অবস্থিত এই বনাঞ্চল এখন সংরক্ষণভিত্তিক পর্যটন ও জলবায়ু উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ভারত
প্রায় ৭২,১৬০ বর্গকিলোমিটার বনভূমি নিয়ে ভারত শীর্ষ ১০ তালিকার শেষ স্থানে রয়েছে। জনসংখ্যার চাপ সত্ত্বেও হিমালয়ের বন, মধ্য ভারতের শাল বন এবং সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন ভারতের পরিবেশগত নিরাপত্তা, পানি সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।