উত্তর-পূর্ব ও উত্তর জাপানে সোমবার ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ভ্রমণকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পের পর সুনামির আশঙ্কায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ‘মেগা ভূমিকম্প’ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানায়, ভূমিকম্পের পর হোক্কাইডো, আওমোরি ও ইওয়াতে প্রিফেকচারের কিছু উপকূলীয় এলাকায় সুনামির সম্ভাবনা ছিল। পূর্ব উপকূলে সর্বোচ্চ প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়। যদিও পরবর্তীতে সব সুনামি সতর্কতা ও পরামর্শ প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবু কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে—এই সপ্তাহে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

জাপান ভ্রমণ কি নিরাপদ

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাপানের আবহাওয়া সংস্থা সতর্কতামূলক ‘মেগা ভূমিকম্প’ সতর্কবার্তা জারি করেছে। অর্থাৎ, আগামী সপ্তাহে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

হোক্কাইডো, আওমোরি, ইওয়াতে, মিয়াগি, ফুকুশিমা, ইবারাকি ও চিবা অঞ্চলে অবস্থানরত বাসিন্দা ও পর্যটকদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সাধারণ নিরাপত্তা পরামর্শে বলা হয়েছে, জাপান একটি বড় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। তাই দুর্যোগের সময় হোটেল কক্ষ ও রেলস্টেশনে দেওয়া নির্দেশনা খেয়াল রাখা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। ভূমিকম্প, সুনামি ও পরাঘাত সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য জাপানের আবহাওয়া সংস্থার মাধ্যমে জানা যাবে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কী বলছে

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, সরকার একটি জরুরি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কোথায় আঘাত হেনেছে ভূমিকম্প

স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটে সানরিকু উপকূলের কাছে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। উপকূলের অদূরে সমুদ্রের নিচে এর উৎপত্তিস্থল ছিল। জাপানের ভূকম্পন মাত্রা নির্ধারণ সূচকে এর তীব্রতা ছিল ‘উচ্চ ৫’, যেখানে সর্বোচ্চ মাত্রা ৭। এই মাত্রায় অধিকাংশ মানুষের স্থির কোনো বস্তু না ধরে হাঁটা কঠিন হয়ে পড়ে এবং অস্থির আসবাবপত্র পড়ে যেতে পারে।

সুনামি সতর্কতা কোথায় ছিল

জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় অগ্নিবলয়ের মধ্যে অবস্থিত—যেখানে একাধিক টেকটোনিক প্লেট মিলিত হয়েছে। ফলে এটি বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল।

ভূমিকম্পের পর হোক্কাইডো ও ইওয়াতে অঞ্চলের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে ১ থেকে ৩ মিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়। উপকূলীয় এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে সতর্কতার মাত্রা কমিয়ে এক মিটার পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা জানানো হয়। মধ্যরাতের মধ্যে সব সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

বিমান ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

উড়োজাহাজ চলাচল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক রয়েছে। ভূমিকম্পের পরও জাপানে আসা-যাওয়া করা অধিকাংশ ফ্লাইট নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।

তবে সোমবার টোকিও থেকে শিন-আওমোরি পর্যন্ত বুলেট ট্রেন কয়েক ঘণ্টা বন্ধ ছিল। সন্ধ্যার দিকে তা পুনরায় চালু হয়। কিছু মহাসড়কও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

ভ্রমণ বাতিল করলে টাকা ফেরত মিলবে

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জাপানে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার কোনো নির্দেশনা দেয়নি। ফলে বিশেষ পরিস্থিতি হিসেবে পুরো অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ নেই।

ভ্রমণ বাতিল বা পিছিয়ে দেওয়ার শর্ত নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ভ্রমণ সংস্থার নীতিমালার ওপর। শুধুমাত্র নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভ্রমণ বীমা থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করা যাবে না—যদি না সরকারি পরামর্শ পরিবর্তিত হয়।

সব মিলিয়ে মোটা দাগে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হলেও জাপানে এখনও ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। ভ্রমণ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও সতর্ক থাকা, স্থানীয় নির্দেশনা মেনে চলা এবং হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।