কুয়াকাটা সৈকত সারাদেশে পরিচিত সুন্দর সমুদ্র, ঘূর্ণায়মান বালির ঢেউ আর সূর্যাস্তের জন্য। কিন্তু এই মুহূর্তে সৈকতটিতে অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখা গেছে। সৈকতের বিভিন্ন অংশে হাজার হাজার মৃত জেলিফিশের অনবরত ভেসে আসায় পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ী উদ্বিগ্ন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু কুয়াকাটার সমস্যা নয় বরং উপকূলীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য সতর্কতা হিসেবে দেখা উচিত।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে ত্রিনদুর মোহনা, চর বিজয়, গঙ্গামতি, লেবুর বন ও অন্যান্য জায়গায় ঢেউয়ের সাথে বিশাল পরিমাণ মৃত জেলিফিশ সৈকতের বালিতে আটকে থাকতে দেখা গেছে। এসব জেলিফিশের সংখ্যা এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে বালিয়াড়ি জুড়ে ছড়িয়ে পড়া মৃত প্রাণীর কারণে দুর্গন্ধও শুরু হয়ে আছে।
পর্যটকরা জানান, সৈকতে ভ্রমণে আসার পর এত মৃত জেলিফিশ এবং দুর্গন্ধের মুখোমুখি হওয়া তাদের অভিজ্ঞতা খারাপ করেছে। এক পর্যটক বলেন, সৈকতে হাঁটতে নেমে দুর্গন্ধ ও পিচ্ছিল বালির কারণে পরিবার নিয়ে হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। পর্যটকদের অনেকে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সৈকতের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন আশঙ্কা করছেন।
জেলেরা বলছেন, মৃত জেলিফিশগুলো সমুদ্র থেকে জাল আটকে পড়ে মারা যাচ্ছে এবং পরে সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে এসে বালির উপর জমা হচ্ছে। এতে তাদের মাছ ধরার কাজে যেমন বিঘ্ন ঘটছে, তেমনি জাল নষ্ট হলেও প্রতিদিনই নতুন মৃত জেলিফিশ সৈকতে আসে।
পরিবেশ কর্মীরা উল্লেখ করেছেন, কিছু মাত্রার জেলিফিশ মৃত্যু স্বাভাবিক হলেও সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা বলছেন পরিবেশগত পরিবর্তন, দূষণ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ এই বাস্তবতায় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সৈকত ও সমুদ্র পরিবেশ রক্ষায় গবেষণা ও দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, এই পরিস্থিতিতে জেলেদের সচেতনতা বাড়ানো ও জাল ব্যবহারের সঠিক নিয়ম মেনে চলা জরুরি। পর্যটন পরিষ্কার রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।