পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে এবার টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি অফিস-আদালত বন্ধ থাকবে। দীর্ঘ এই ছুটিকে ঘিরে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ এটিকে পারিবারিক বন্ধন ও ভ্রমণের সুযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, দীর্ঘ ছুটিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ধীরগতি তৈরি হয়।

রাজধানীকেন্দ্রিক কর্মব্যস্ত জীবনে টানা ছুটি অনেকের কাছে স্বস্তির সুযোগ হয়ে আসে। বিশেষ করে ঈদের আগে ও পরে কয়েক দিনের ব্যবধানে যাত্রা ভাগ হয়ে যাওয়ায় সড়ক, রেল ও নৌপথে চাপ কিছুটা কমে বলে মনে করছেন যাত্রীরা।

সরকারি এক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মেহেরুল আলম বলেন, দীর্ঘ ছুটিতে পরিবারকে সময় দেওয়া যায়। আগে বাড়ি যেতে পারলে যাত্রাপথের ভোগান্তিও কম হয়। এতে ঈদের আনন্দ আরও বাড়ে।

বেসরকারি চাকরিজীবী মিঠি চৌধুরী বলেন, ঈদের সময় ঢাকা ফাঁকা হয়ে গেলে শহরকে অনেক শান্ত লাগে। যানজট কমে, কেনাকাটাও স্বস্তিতে করা যায়। পরিবারকেও বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হয়।

ব্যবসায়ীদের একটি অংশ মনে করছেন, ছুটি দীর্ঘ হলে কেনাকাটার চাপ কয়েক দিনে ভাগ হয়ে যায়। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যই স্বস্তি তৈরি হয়।

পলওয়েল মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী মহসিন ব্যাপারি বলেন, ঈদের আগে মানুষ ধীরে-সুস্থে কেনাকাটা করতে পারেন। কর্মচারীরাও চাপমুক্তভাবে কাজ করতে পারেন। তবে দীর্ঘ ছুটির কারণে অনেকেই আগে ঢাকা ছাড়ায় শেষ মুহূর্তের বিক্রি কিছুটা কমে যায়।

ঈদের দীর্ঘ ছুটির বড় সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছে পর্যটন খাত। কক্সবাজার, সিলেট, বান্দরবান, রাঙামাটি ও কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় এ সময় পর্যটকের চাপ বাড়ে। এতে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাড়তি আয় করেন।

কক্সবাজারের হোটেল ব্যবসায়ী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ছুটি বেশি থাকলে মানুষ পরিবার নিয়ে ভ্রমণে বের হন। এতে পর্যটন খাত চাঙা হয় এবং স্থানীয় অর্থনীতিও সচল থাকে।

তবে দীর্ঘ ছুটি নিয়ে উদ্বেগও কম নয়। ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের একাংশ বলছেন, ব্যাংকিং কার্যক্রম সীমিত হয়ে গেলে আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়ায় ধীরগতি তৈরি হয়। তৈরি পোশাকসহ রফতানিমুখী শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হলে সময়মতো চালান পাঠাতে চাপ তৈরি হতে পারে।

দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ সময় ব্যবসা বন্ধ থাকলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। উৎপাদন কমে যায়, লেনদেন কমে এবং অনেক প্রতিষ্ঠানে পরে কাজের চাপ বেড়ে যায়।