চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর এলাকায় জোয়ারের তীব্র স্রোতে রশি ছিঁড়ে নদীর মাঝখানে ভেসে যায় ‘ধনাগোদা রিভারভিউ ভাসমান রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর গভীর রাতে সেটিকে উদ্ধার করে আগের স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়।

সোমবার (১৮ মে) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত প্রায় ১টার দিকে রেস্টুরেন্টটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মোহনপুরের আমিরাবাদ এলাকায় নদীর তীরে রশি দিয়ে বাঁধা ছিল ভাসমান রেস্টুরেন্টটি। বিকেলে জোয়ারের পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবল স্রোতের চাপ তৈরি হলে বাঁধা রশি ছিঁড়ে যায়। এরপর রেস্টুরেন্টটি নদীর মাঝখানে ভেসে যেতে শুরু করে।

ঘটনার সময় রেস্টুরেন্টে লোকজন থাকায় মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ঘটনার ভিডিও।

তবে রেস্টুরেন্টটির মালিক সিদ্দিকুর রহমান দাবি করেন, ভেতরে কোনো পর্যটক ছিলেন না। সেখানে শুধু প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরাই ছিলেন। তিনি বলেন, পানি কমে যাওয়ায় রেস্টুরেন্টটি কিছুটা সামনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে জোয়ারের পানি বাড়লে সেটি স্রোতে ভেসে যায়। পরে কর্মচারীরাই সেটিকে উদ্ধার করেন। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাসমান রেস্টুরেন্টটির কোনো প্রশাসনিক অনুমোদন নেই। শুধু রশির ওপর নির্ভর করে নদীতে এ ধরনের স্থাপনা পরিচালনা করাকে তারা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, রেস্টুরেন্টটি দেখতে আকর্ষণীয় হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল দুর্বল। যথাযথ পরিকল্পনা ও অনুমোদন ছাড়া নদীতে ভাসমান রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, রেস্টুরেন্টটির কোনো প্রশাসনিক অনুমোদন নেই। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই এটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনো সেটি অপসারণ করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন তিনি। রেস্টুরেন্টটি নদীতে ভেসে গেলেও কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের কাছে কোনো সহায়তা চায়নি।

এ ঘটনায় নতুন করে ভাসমান রেস্টুরেন্টগুলোর নিরাপত্তা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীতে পরিচালিত এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার ওপর প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।