আসন্ন ঈদুল আজহার টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের বরণে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা। সৈকতজুড়ে চলছে সৌন্দর্যবর্ধন, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা কার্যক্রম। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের আশা, এবারের ঈদে অন্তত দুই লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটবে সাগরকন্যাখ্যাত এই সমুদ্রসৈকতে।
পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য কুয়াকাটায় যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে। ফলে ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ভ্রমণে আগ্রহ বাড়ছে পর্যটকদের মধ্যে। এ সুযোগকে সামনে রেখে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল ও মোটেলগুলো নতুন সাজে সাজানো হচ্ছে। বিভিন্ন হোটেলে আসবাব ও অভ্যন্তরীণ সজ্জায় আনা হয়েছে নতুনত্ব। সৈকতসংলগ্ন এলাকায় চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। পাশাপাশি পর্যটকদের চাহিদা মাথায় রেখে দোকানিরা নতুন পণ্যের সমাহার সাজিয়ে তুলছেন।
কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির বলেন, কুয়াকাটার অন্যতম বিশেষত্ব হলো একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়। এছাড়া ঢাকা থেকে তুলনামূলক কম সময়ে পৌঁছানো সম্ভব হওয়ায় কক্সবাজারের বিকল্প হিসেবে অনেক পর্যটক এখন কুয়াকাটাকে বেছে নিচ্ছেন।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সৈকতের পরিবেশ রক্ষায় একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন। সৈকত এলাকায় শৃঙ্খলা ফেরাতে অস্থায়ী ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মাছ ধরার নৌকা নির্ধারিত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পর্যটকদের ভোগান্তি কমাতে আবাসিক হোটেল, খাবারের দোকান, অটোভ্যান ও মোটরবাইকের ভাড়াও নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সৈকত এলাকা ময়লা-আবর্জনামুক্ত রাখতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে সক্রিয় থাকবে। ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের চাপ সামাল দিতে বাড়ানো হচ্ছে নজরদারিও।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও দীর্ঘ ছুটি থাকলে এবার কুয়াকাটায় পর্যটকের উপস্থিতি গত কয়েক বছরের তুলনায় আরও বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে জমজমাট এক ঈদ পর্যটন মৌসুমের প্রত্যাশায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।