মালদ্বীপে ইতালীয় স্কুবা ডুবুরিদের মরদেহ উদ্ধারকারী দলের এক সদস্য জানিয়েছেন, ডুবুরিদের কাছে থাকা সরঞ্জামগুলো সাগরের তলদেশের বিরূপ পরিবেশের জন্য ‘উপযুক্ত ছিল না’।
সপ্তাহ খানেক আগে একটি গুহার ভেতর থেকে ইতালীয় ডুবুরিদের লাশ উদ্ধার করা হয়। গুহার ভেতরের ছবিগুলো তুলেছেন ফিনিশ ডুবুরি সামি পাক্কারিনেন। 
ইতালীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, "মৃতদেহগুলো গুহার একটি নির্দিষ্ট অংশে একসঙ্গে ছিল।" 
তার ভাষায়, গুহাটি অত্যন্ত গভীর এবং সেখানে অভিযান চালানো ‘খুবই ঝুঁকিপূর্ণ’ ছিল। 
ভাভু অ্যাটলের ১৯৬ ফুট (৬০ মিটার) গভীর ওই গুহায় সেদিন পাঁচজন নিখোঁজ হন। এর পরপরই প্রথম ডুবুরির মরদেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। তবে বাকি চারজনকে গুহার অনেক গভীরে খুঁজে পেতে ফিনিশ এবং মালদ্বীপের বিশেষজ্ঞ ডুবুরি দলের বেশ কয়েক দিন সময় লাগে। 
গত সপ্তাহের এই উদ্ধার অভিযান চলাকালে মালদ্বীপের একজন উদ্ধারকারী ডুবুরিও প্রাণ হারান।
কোরাল দ্বীপপুঞ্জের জন্য বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র মালদ্বীপে এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ একক ডাইভিং দুর্ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। 
উদ্ধার হওয়া ডুবুরিদের লাশ শনিবার ইতালিতে ফেরত পাঠানোর কথা রয়েছে এবং সেখানে তাদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।
'লা রিপাবলিকা' পত্রিকাকে পাক্কারিনেন বলেন, মৃতদেহগুলো পাওয়ার পর তাদের মনে হয়েছে যে এই দুর্ঘটনার পেছনে কোনো ‘ট্র্যাজিক হিউম্যান ইরোর’ থাকতে পারে। তবে আসল কারণ কী, তা তদন্তকারীরাই নিশ্চিত করবেন।
সঠিক সরঞ্জাম ছাড়া ডুবুরিরা কেন গুহার ভেতর প্রবেশ করেছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পাক্কারিনেন। 
তিনি বলেন, নিরাপত্তার জন্য কোনো ‘ডাইভিং রিল’ বা ‘গাইড রোপ’ ছাড়া তারা নিজেরাও কখনো এমন বিপজ্জনক পরিবেশে যেতেন না। পানির নিচে জটিল বা ঝুঁকিপূর্ণ পথ চেনার জন্য এই ডাইভিং রিল ব্যবহার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত যারা পানির নিচের গুহায় যান, তারা জানেন যে সেফটি লাইন ছাড়া সেখানে যাওয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। দুর্ভাগ্যবশত, গুহা ডাইভিংয়ের অধিকাংশ দুর্ঘটনার প্রধান কারণই হলো মানবিক ভুল।’
পাক্কারিনেন বিস্তারিত তথ্য না জানালেও স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে যে সরঞ্জাম পেয়েছি, তা আদর্শ ছিল না। তারা পানির নিচের গুহায় যাওয়ার মতো বিশেষ গিয়ার ব্যবহার করছিলেন না।"
দুর্ঘটনার শিকার ইতালীয় ডুবুরিদের মধ্যে দুজন ছিলেন জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। তারা হলেন অধ্যাপক মনিকা মন্তেফালকোনে এবং রিসার্চ ফেলো মুরিয়েল ওদেনিনো। তারা মালদ্বীপে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জীববৈচিত্র্যের ওপর পড়া প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছিলেন।
এই ডাইভিং গ্রুপটিতে আরও ছিলেন জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অধ্যাপক মন্তেফালকোনের মেয়ে জর্জিয়া সোমাকাল এবং সদ্য স্নাতক শেষ করা ফেদেরিকো গুয়ালতিয়েরি। দুর্ঘটনার পর সবার প্রথমে যার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, তিনি হলেন বোট অপারেশন ম্যানেজার এবং ডাইভিং ইন্সট্রাক্টর জানলুকা বেনেদেত্তি।
গত ১৪ মে তারা সবাই মিলে ভাভু অ্যাটলে সাগরে নামেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরও তারা পানির ওপরে ফিরে না আসায় তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর জানানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানী মালে থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত ওই এলাকাটিতে ডাইভিংয়ের সময় আবহাওয়া অত্যন্ত বৈরী ছিল। এমনকি সে সময় যাত্রীবাহী নৌকা ও জেলেদের জন্য 'হলুদ সতর্কতা' জারি করা হয়েছিল।
এদিকে, নিখোঁজ ডুবুরিদের খুঁজতে গিয়ে প্রাণ হারানো মালদ্বীপের সেই উদ্ধারকারী ডুবুরির পরিচয় মিলেছে। 
তার নাম স্টাফ সার্জেন্ট মোহাম্মদ মাহদী। গত শনিবার মৃতদেহগুলো শনাক্ত করার চেষ্টায় নিয়োজিত আট সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দলের অংশ ছিলেন তিনি। উদ্ধার অভিযানের একপর্যায়ে অন্য ডুবুরিরা পানি থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বর্তমানে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে।