পবিত্র ঈদুল আজহা ও টানা সরকারি ছুটি সামনে রেখে প্রতি বছর পর্যটকে মুখর থাকে পাহাড়ি জেলা বান্দরবান। তবে এবার সেই চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। জেলার হোটেল, মোটেল, কটেজ ও রিসোর্টগুলোতে প্রত্যাশিত বুকিং না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, ঈদের পর ছুটি কম থাকায় পর্যটকদের আগ্রহ কমেছে। ফলে ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসার বড় অংশই অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে জেলার বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা বান্দরবান সারা বছরই পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। বিশেষ করে দীর্ঘ সরকারি ছুটি কিংবা উৎসবকেন্দ্রিক সময়ে পর্যটকের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সেই চাহিদাকে কেন্দ্র করে জেলায় গড়ে উঠেছে প্রায় এক হাজারের বেশি হোটেল, মোটেল, কটেজ ও রিসোর্ট। এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছেন অন্তত ১৫ হাজার মানুষ।
তবে এবার ঈদুল আজহার আগে তুলনামূলক বেশি ছুটি থাকলেও ঈদের পর পর্যাপ্ত ছুটি না থাকায় অনেকেই ভ্রমণ পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এর প্রভাব পড়েছে বুকিং পরিস্থিতিতে।
হোটেল হিল্টনের ম্যানেজার জোবায়ের সাকি বলেন, বর্তমানে তাদের হোটেলে প্রায় ২০ শতাংশ কক্ষ দখলে রয়েছে। তবে ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সময়ের জন্য প্রায় ৫০ শতাংশ আগাম বুকিং পাওয়া গেছে।
হোটেল গ্র্যান্ড ভ্যালির ম্যানেজার আক্কাস উদ্দীন সিদ্দিকী বলেন, অন্য বছর এ সময় ভালো বুকিং পাওয়া গেলেও এবার সেই সাড়া নেই। বর্তমানে তাদের হোটেলের প্রায় ২০ শতাংশ কক্ষ বুকিং রয়েছে। তবে মাসের শেষ তিন দিনের জন্য অর্ধেক কক্ষ আগাম সংরক্ষণ হয়েছে। সামনে বুকিং আরও বাড়তে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
হোটেল গার্ডেন সিটির ম্যানেজার মো. আরমান জানান, বর্তমানে তাদের হোটেলে প্রায় ২০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। তবে ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সময়ের জন্য ৬০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
অন্যদিকে হোটেল হিল ভিউর ম্যানেজার মো. পারভেজ বলেন, বছরের এই সময়ে সাধারণত তাদের ৯০টি কক্ষের বেশিরভাগই বুকড থাকে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বর্তমানে মাত্র ১২টি কক্ষ বুকিং রয়েছে। এছাড়া ঈদের আগের দিনগুলোতেও আশানুরূপ সাড়া নেই। ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত গড়ে ২৫ শতাংশ আগাম বুকিং পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
বান্দরবান হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দীন বলেন, এবারের সরকারি ছুটির বড় অংশ ঈদের আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে ঈদের পর ভ্রমণের সুযোগ কমে গেছে। এ কারণেই পর্যটকের চাপ কম দেখা যাচ্ছে। তবে আগত পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে জেলার সব হোটেল ও রিসোর্ট মালিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও। বান্দরবানের ট্যুরিস্ট পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) ফরিদ উদ্দীন বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ যৌথভাবে কাজ করবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে।