ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে নিজের গাড়িতে বাড়ি ফেরা বা দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা অনেকেরই থাকে। তবে দীর্ঘ পথের যাত্রায় সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের ভোগান্তি বা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে মহাসড়কে অতিরিক্ত চাপ, যানজট এবং গরম আবহাওয়ায় গাড়ির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। তাই রওনা দেওয়ার আগে গাড়ির যান্ত্রিক অবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রার জন্য যেসব বিষয় আগে থেকেই পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত, সেগুলো তুলে ধরা হলো।
১. ইঞ্জিন অয়েল ও প্রয়োজনীয় তরলের মাত্রা পরীক্ষা করুন
দীর্ঘ ভ্রমণের আগে গাড়ির ইঞ্জিন অয়েল, ব্রেক অয়েল, গিয়ার অয়েল এবং কুল্যান্টের পরিমাণ পরীক্ষা করা জরুরি। ইঞ্জিন অয়েল অতিরিক্ত কালচে হয়ে গেলে বা পরিমাণ কম থাকলে দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে।
গরমের সময় ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়া ঠেকাতে রেডিয়েটরে পর্যাপ্ত কুল্যান্ট আছে কি না, তা নিশ্চিত করুন। পাশাপাশি উইন্ডশিল্ড ওয়াইপারের পানি ও ব্রেক ফ্লুইডও পরীক্ষা করে নিন।
২. টায়ারের অবস্থা ভালোভাবে দেখে নিন
টায়ারে সঠিক মাত্রার বাতাস না থাকলে জ্বালানি খরচ বাড়ে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই যাত্রার আগে টায়ারের চাপ মেশিন দিয়ে পরীক্ষা করানো ভালো।
এ ছাড়া টায়ারের খাঁজ বা গ্রিপ ক্ষয় হয়ে গেলে ভেজা বা পিচ্ছিল রাস্তায় গাড়ি স্কিড করতে পারে। অতিরিক্ত ক্ষয় হলে টায়ার বদলে নেওয়াই নিরাপদ। অতিরিক্ত চাকা বা টায়ার সিলেন্ট সঙ্গে আছে কি না, সেটিও দেখে নিন।
৩. ব্রেকের কার্যকারিতা নিশ্চিত করুন
মহাসড়ক, পাহাড়ি পথ বা শহরের ব্যস্ত সড়ক, সব জায়গাতেই নিরাপদ চালনার মূল ভরসা ব্রেক। ব্রেক চাপলে অস্বাভাবিক শব্দ, কাঁপুনি বা ঢিলাভাব অনুভূত হলে দ্রুত মেকানিক দিয়ে পরীক্ষা করান।
প্রয়োজনে ব্রেক প্যাড পরিবর্তন করে নেওয়া ভালো। দীর্ঘ যাত্রার আগে ব্রেক অবহেলা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
৪. ব্যাটারি ও লাইট পরীক্ষা করা জরুরি
ব্যাটারির সংযোগস্থলে মরিচা বা সাদা আস্তরণ জমেছে কি না, তা দেখে নিন। ব্যাটারি দুর্বল হয়ে গেলে দীর্ঘ পথে গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
একই সঙ্গে হেডলাইট, ব্রেক লাইট, ব্যাকলাইট ও ইন্ডিকেটর ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। রাতে বা কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় এসব লাইট নিরাপদ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৫. বেল্ট ও হোস পাইপে সমস্যা আছে কি না দেখুন
ইঞ্জিনের ড্রাইভ বেল্টে ফাটল বা ঢিলাভাব থাকলে তা বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ হতে পারে। পাশাপাশি রেডিয়েটর বা অন্যান্য হোস পাইপ থেকে লিক হচ্ছে কি না, তাও পরীক্ষা করতে হবে।
ছোট সমস্যা অবহেলা করলে মাঝপথে গাড়ি বিকল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
৬. গাড়ির বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন
দীর্ঘ যাত্রার আগে গাড়ির সব কাগজপত্র হালনাগাদ আছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও বীমার কাগজ সঙ্গে রাখুন।
ঈদের সময় মহাসড়কে তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানো হয়। তাই কাগজপত্রে কোনো ঘাটতি থাকলে জরিমানা বা আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে।
৭. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে গাড়ি চালান
ক্লান্ত বা ঘুম ঘুম অবস্থায় গাড়ি চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ যাত্রার আগে পর্যাপ্ত ঘুম নিরাপদ চালনার অন্যতম শর্ত।
চালক ক্লান্ত বোধ করলে কিছু সময় বিরতি নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে চা পান বা মুখে পানি দিয়ে সতেজ হয়ে আবার যাত্রা শুরু করুন। রাস্তার পরিস্থিতি ও যানজট জানতে জিপিএস বা গুগল ম্যাপ ব্যবহার করলে বিকল্প পথ বেছে নেওয়া সহজ হয়।
৮. অতিরিক্ত গতি এড়িয়ে চলুন
দ্রুতগতির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তাই মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলাই নিরাপদ।