নীল সমুদ্র, সবুজ পাহাড় আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের শহর চট্টগ্রাম এবারও ঈদুল আজহার ছুটিতে পর্যটকদের বড় গন্তব্য হয়ে উঠতে যাচ্ছে। ঈদকে ঘিরে নগরী ও জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও বাড়তি বিনোদন সুবিধা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।
প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে সমুদ্রসৈকত, পার্ক, লেক ও ঝরনাগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়বে কয়েকগুণ।
পর্যটকদের স্বাগত জানাতে বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে চলছে রঙ-রূপের কাজ। রাইডগুলো নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে বাড়ানো হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও নিরাপত্তা নজরদারি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে থাকবে তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা।
চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়ও নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। স্বল্পমূল্যের টিকিটের কারণে প্রতি ঈদেই এখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড় দেখা যায়। বর্তমানে চিড়িয়াখানাটিতে বাঘ, হরিণসহ ৫৮ প্রজাতির প্রায় ৫২০টি পশুপাখি রয়েছে।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, ঈদকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ঈদের ছুটিতে ৬০ থেকে ৯০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হতে পারে। বর্তমানে চিড়িয়াখানার প্রবেশ টিকিটের মূল্য ৭০ টাকা।
ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, পারকি সৈকত, গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত ও আকিলপুর সৈকতে সবচেয়ে বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটে। এছাড়া ডিসি পার্ক, বায়েজিদ লিংক রোড, আউটার রিং রোড, মহামায়া লেক, জিলাপি পাহাড়, বাটালি হিল, ভাটিয়ারি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল ঘিরেও বাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়।
কর্ণফুলী নদীর তীর, হালিশহর ও কাট্টলী সমুদ্রপাড়েও ঈদের সময় মানুষের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। শহরের বাইরে আনোয়ারার পারকি সৈকত, মীরসরাইয়ের খৈয়াছড়া, সুপ্তধারা, সহস্রধারা, কমলদহ, নাপিত্তাছড়া ও সোনাইছড়ি ঝরনাতেও প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে।
প্রকৃতি ও আধুনিক বিনোদনের সমন্বয়ে সাজানো ফয়’স লেক কমপ্লেক্সেও চলছে বাড়তি প্রস্তুতি। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটাতে ইতোমধ্যে এই বিনোদনকেন্দ্রকে ঘিরে আগ্রহ বেড়েছে দর্শনার্থীদের মধ্যে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ চট্টগ্রাম রিজিয়নের পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক বলেন, ঈদের ছুটিতে ঘুরতে আসা পর্যটকরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য সব পর্যটনকেন্দ্রে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিএমপি ও জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
তিনি আরও জানান, গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। বিশেষ করে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে থাকবে ট্যুরিস্ট পুলিশের হেল্প ডেস্ক ও ওয়াচ টাওয়ার। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে শিশু কর্নার ও মাতৃদুগ্ধ কর্নারের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।