বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা পোল্যান্ডের ‘হেল’ গন্তব্যে আবারও ফিরছে আলোচিত ৬৬৬ নম্বর বাস। খ্রিষ্টান ধর্মীয় গোষ্ঠীর আপত্তির মুখে কয়েক বছর আগে রুট নম্বর পরিবর্তন করা হলেও এবার পর্যটন প্রচারণার অংশ হিসেবে বিতর্কিত এই নম্বর পুনর্বহালের ঘোষণা দিয়েছে পরিবহন প্রতিষ্ঠান ফ্লিক্সবাস।

ইংরেজি শব্দ ‘হেল’ শুনলেই সাধারণত নরকের কথা মনে আসে। তবে পোল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে বাল্টিক সাগর উপকূলে অবস্থিত জনপ্রিয় এক পর্যটন গন্তব্যের নামই ‘হেল’। নামের এই ব্যতিক্রমধর্মী বৈশিষ্ট্যের কারণে শহরটি বহুদিন ধরেই আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।

এই শহরে যাতায়াতকারী বাসের নম্বর ছিল ৬৬৬। খ্রিষ্টান ধর্মগ্রন্থ বাইবেলে ৬৬৬ সংখ্যাটিকে ‘দ্য নাম্বার অব দ্য বিস্ট’ বা ‘পশুর সংখ্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অনেক খ্রিষ্টান বিশ্বাসীর কাছে এটি শয়তানের প্রতীক হিসেবেও পরিচিত। ফলে ‘৬৬৬ নম্বর বাসে হেল যাত্রা’ বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ধর্মীয় আপত্তির কারণে ২০২৩ সালে স্থানীয় পরিবহন প্রতিষ্ঠান পিকেএস গদিনিয়া রুটটির নম্বর পরিবর্তন করে ৬৬৯ করে। তবে এবার গ্রীষ্মকালীন মৌসুমকে সামনে রেখে ফ্লিক্সবাস আবারও ৬৬৬ নম্বরটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বাসটি পোল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং অন্যতম প্রাচীন শহর ক্র্যাকভ থেকে যাত্রা শুরু করবে। প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে রাজধানী ওয়ারশসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিরতি দিয়ে এটি পৌঁছাবে বাল্টিক সাগরের তীরবর্তী হেল উপদ্বীপে।

সিএনএনের সহযোগী সংবাদমাধ্যম টিভিএন২৪-কে দেওয়া এক বক্তব্যে ফ্লিক্সবাসের একজন মুখপাত্র বলেন, এই রুটটির প্রতি মানুষের আগ্রহ তৈরি করা এবং পোল্যান্ডের উপকূলীয় অঞ্চলে আরও পর্যটক আকর্ষণ করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। তার ভাষায়, ৬৬৬ নম্বরটি মূলত একটি বিপণন কৌশলের অংশ।

নতুন এই বাসসেবা পুরো গ্রীষ্মকালজুড়ে প্রতিদিন একবার পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

হেল উপদ্বীপ পোল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে বাল্টিক সাগরের বুকে অবস্থিত একটি সরু ভূখণ্ড। স্বচ্ছ সমুদ্রের পানি, দীর্ঘ বালুকাবেলা এবং মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে এটি দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিত।

রুট নম্বর নিয়ে বিতর্ক থাকলেও হেলের জনপ্রিয়তায় তার কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং প্রতি বছর দেশি-বিদেশি অসংখ্য পর্যটক এই উপদ্বীপে ভ্রমণে আসেন। এখন পর্যন্ত শহরটির নাম পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ বা দাবি সামনে আসেনি।