কক্সবাজারে ঈদের পর্যটন মৌসুমে বিদ্যুৎ বিপর্যয় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে পর্যটন খাতে। টানা লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে গত এক সপ্তাহে অন্তত ৩০ হাজার পর্যটক বুকিং বাতিল করেছেন। অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ত্যাগ করছেন বলে জানিয়েছে হোটেল মালিকদের সংগঠন।
ঈদের দিন ভোরে কক্সবাজার শহরের কলাতলী সাবস্টেশনের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। রোববার বিকেল পর্যন্ত ট্রান্সফরমারটি সচল করা সম্ভব হয়নি।
ঈদের ছুটি উপলক্ষে সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক পর্যটন নগরী কক্সবাজারে লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটে। বিশেষ করে কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস, কটেজ ও রিসোর্টে একসঙ্গে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার পর্যটকের আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
কক্সবাজার হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, কয়েক দিন ধরে চলমান লোডশেডিংয়ের কারণে হোটেলগুলোকে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে ব্যয় বেড়ে গেলেও অতিথিদের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, গত এক সপ্তাহে অন্তত ৩০ হাজার পর্যটক বুকিং বাতিল করেছেন।
পর্যটকদের অভিযোগও কম নয়। নারায়ণগঞ্জ থেকে পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা মো. ইব্রাহিম জানান, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা একটি হোটেলের লিফটে প্রায় ২০ মিনিট আটকা ছিলেন। পরে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে এমন পরিস্থিতি হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আবদুস সামাদ বলেন, বাইরে ঘোরাঘুরির পর হোটেলে ফিরেও স্বস্তি মিলছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় এসি ও ফ্যান ব্যবহার করা যাচ্ছে না, ফলে গরমে দুর্ভোগ বাড়ছে।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে হোটেল ব্যবসায়ীদের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কলাতলী এলাকার একটি হোটেলের ব্যবস্থাপক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পর্যটকদের সেবা সচল রাখতে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে, যা পরিচালন ব্যয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে। অন্যদিকে একটি রিসোর্টের মহাব্যবস্থাপক জানান, প্রতিদিন শুধু ডিজেল কিনতেই ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।
হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার মনে করেন, আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে কক্সবাজারের সুনাম। পর্যটকেরা খারাপ অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে গেলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পুরো পর্যটন শিল্পের ওপর পড়তে পারে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার শহর ও হোটেল-মোটেল জোনে প্রতিদিন প্রায় ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে সরবরাহ করা যাচ্ছে প্রায় ৪০ মেগাওয়াট, ফলে ১০ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
পিডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিকল ট্রান্সফরমারটি মেরামতে দিনরাত কাজ চলছে। বিকল্প ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও অতিরিক্ত চাপের কারণে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, ট্রান্সফরমারটি দ্রুত সচল করা গেলে কক্সবাজারে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।