বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য মালদ্বীপ ২০২৬ সালের মাঝপথে পৌঁছানোর আগেই নতুন এক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে। দেশটির পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের শেষ পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ২৩ হাজার বিদেশি পর্যটক দেশটি ভ্রমণ করেছেন। বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চলতি বছরে ১০ লাখ পর্যটক আগমনের সংখ্যা অতিক্রম করবে ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্র।

করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য সীমান্ত খোলা রেখে বৈশ্বিক পর্যটন খাতে বিশেষ আলোচনায় আসে মালদ্বীপ। সেই সময়ের সাহসী সিদ্ধান্তের পর থেকে দেশটি ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় অবকাশযাপন গন্তব্য হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। আন্তর্জাতিক পর্যটন খাতের বিভিন্ন স্বীকৃতি ও রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক আগমন মালদ্বীপের বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা এবং ইউরোপের কিছু ঐতিহ্যবাহী বাজারে ভ্রমণ চাহিদা কিছুটা কমলেও মালদ্বীপের পর্যটন খাত শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মে মাসে পর্যটক আগমন বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। বর্তমানে দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ৬ হাজার ২০০ জনের বেশি পর্যটক প্রবেশ করছেন।

চলতি বছরের শুরু থেকেই পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। মার্চের প্রথম সপ্তাহেই পর্যটক সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়ে যায়, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। এছাড়া জানুয়ারিতে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৮ জন পর্যটক আগমন করে, যা দেশটির ইতিহাসে জানুয়ারি মাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০২৬ সালে মালদ্বীপে পর্যটক পাঠানোর ক্ষেত্রে চীন সবচেয়ে বড় উৎসবাজার হিসেবে উঠে এসেছে। মে মাসের শেষ পর্যন্ত দেশটি থেকে ১ লাখ ৪১ হাজারের বেশি পর্যটক মালদ্বীপ ভ্রমণ করেছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া, যেখান থেকে ১ লাখ ২১ হাজারের বেশি পর্যটক এসেছে। তালিকায় শীর্ষস্থানীয় বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যও রয়েছে।

পর্যটন শিল্প মালদ্বীপের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। ২০২৫ সালে দেশটি ২২ লাখ ৫০ হাজার পর্যটক গ্রহণ করে নতুন রেকর্ড গড়ে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে ২৪ থেকে ২৫ লাখ পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।