বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির বার্তা দিলেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর তিনি দ্রুত পর্যটন ভিসা চালুর আশ্বাস দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আরও গভীর করতে উভয় দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
শুক্রবার সকালে স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদীকে সঙ্গে নিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার। এ সময় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারতীয় হাইকমিশন এবং বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
বেনাপোলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং আবেগের মধ্যে গভীর মিল রয়েছে। তিনি বলেন, দুই দেশের মানুষের কল্যাণে যৌথভাবে কাজ করাই হবে তার দায়িত্ব পালনের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ভারতের ১৪০ কোটি এবং বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষ মিলিয়ে ১৬০ কোটির এই জনশক্তি একসঙ্গে কাজ করতে পারলে তা বিশ্বপরিসরে গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হতে পারে। মানুষের জন্য কল্যাণকর উদ্যোগ বাস্তবায়নে উভয় দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে নতুন হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য এসব ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে ‘পুশইন’ ইস্যু, ভিসা কার্যক্রম এবং বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের জন্য ইতিবাচক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। প্রণয় ভার্মাকে সম্প্রতি বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো সক্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হাইকমিশনার হিসেবে ঢাকায় পাঠিয়েছে ভারত। সাধারণত এই পদে ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিসের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকায় দীনেশ ত্রিবেদীকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলের ধারণা। তিনি অতীতে কংগ্রেস, জনতা দল ও তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।