বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারকে আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও পর্যটনসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
শুক্রবার কক্সবাজারের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিক এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যটকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে আধুনিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণের লক্ষ্যে বিশেষ জোন নির্ধারণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে সমুদ্রসৈকতভিত্তিক পর্যটনের পাশাপাশি বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণ করে ইকো-ট্যুরিজম সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নারী, শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠ পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের নজরদারি জোরদার করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে বিকেলে কলাতলী সৈকতে আয়োজিত অনূর্ধ্ব-১৫ বিচ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক ঘোষণা দেন, কক্সবাজারকে বৈশ্বিক ক্রীড়া পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরতে এখানে ‘সাফ বিচ গেমস’ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বিচ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে।
টুর্নামেন্টের ফাইনালে বালক ও বালিকা উভয় বিভাগে ময়মনসিংহকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় চট্টগ্রাম বিভাগ।
সফরকালে প্রতিমন্ত্রীরা কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত সৈকত এলাকায় হেঁটে পর্যটন ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং পর্যটকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পর্যটকরা সৈকতের বর্তমান ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলার প্রশংসা করে সেবার মান আরও উন্নত করার আহ্বান জানান। এ সময় প্রতিমন্ত্রীরা আশ্বস্ত করেন, দেশের পর্যটন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।