বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর বিমানবন্দরগুলোর ২০২৬ সালের তালিকা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক স্থাপত্যবিষয়ক পুরস্কার সংস্থা প্রিক্স ভার্সাই। এ বছরের তালিকায় স্থান পেয়েছে বিশ্বের সাতটি বিমানবন্দর, যার মধ্যে এশিয়ারই রয়েছে চারটি।
সাধারণত যাত্রীরা বিমানবন্দরকে গন্তব্যে পৌঁছানোর একটি মধ্যবর্তী স্থান হিসেবেই দেখেন। কোথাও কফি পান, ডিউটি-ফ্রি দোকানে কেনাকাটা কিংবা ট্রানজিটে কিছু সময় কাটানোর জন্য বিমানবন্দর ব্যবহার করা হয়। তবে আধুনিক স্থাপত্য ও নকশার কারণে বিশ্বের কিছু বিমানবন্দর এখন নিজস্ব আকর্ষণ ও দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
প্রতি বছর সমসাময়িক স্থাপত্যের সেরা প্রকল্পগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রিক্স ভার্সাইয়ের বিচারকদের মতে, নির্বাচিত বিমানবন্দরগুলো শুধু যাত্রীসেবা নয়, স্থাপত্য, নান্দনিকতা ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রেও নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।
২০২৬ সালের বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ৭ বিমানবন্দর
১. চীনের গুয়াংজু বাইয়ুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনাল ৩
২. জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দর টার্মিনাল ৩
৩. ভারতের লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদোলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনাল ২
৪. ভারতের নভি মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনাল ১
৫. কম্বোডিয়া তেচো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
৬. যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
৭. যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনাল ১
ইউরোপের একমাত্র প্রতিনিধি ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দর
এবারের তালিকায় ইউরোপ থেকে একমাত্র স্থান পেয়েছে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দর টার্মিনাল ৩।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়া নতুন এই টার্মিনালকে প্রিক্স ভার্সাই আখ্যা দিয়েছে “ইউরোপের বৃহত্তম অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর একটি বাস্তবায়ন” হিসেবে।
প্রায় ১ দশমিক ৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে নির্মিত টার্মিনালটি আয়তনে প্রায় ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরের কেন্দ্রস্থলের সমান। জি, এইচ ও জে—এই তিনটি পিয়ারের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ যাত্রী সেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে এর। ভবিষ্যতে ‘কে’ পিয়ার যুক্ত হলে বার্ষিক ধারণক্ষমতা ২ কোটি ৫০ লাখ যাত্রীরও বেশি হবে।
বিমানবন্দর নয়, যেন একটি ছোট শহর
জার্মান স্থপতি ক্রিস্টফ ম্যাকলার-এর নকশায় নির্মিত টার্মিনাল ৩-কে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে এটি একটি ছোট শহরের অনুভূতি দেয়।
বোর্ডিং গেট, লাউঞ্জ ও জনসমাগমের স্থানগুলোকে শহরের রাস্তা ও চত্বরের আদলে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে যাত্রীরা শুধু অপেক্ষা নয়, সময়ও উপভোগ করতে পারেন।
স্থপতি ম্যাকলার বলেন, অনেক বিমানবন্দরে প্রতিদিন যে পরিমাণ মানুষ আসে, তা অনেক শহরের কেন্দ্রস্থলের দর্শনার্থীর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যায়। তাই বিমানবন্দরকে শহরের মতো কিছু সামাজিক ভূমিকা পালন করতে হবে।
শিল্পকলা ও প্রাকৃতিক আলোর সমন্বয়
টার্মিনালটির অন্যতম আকর্ষণ এর নান্দনিক অভ্যন্তরীণ নকশা। প্রাকৃতিক আলো, উষ্ণ রঙের জুরা লাইমস্টোন ও ট্রাভারটিন পাথরের ব্যবহার এটিকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।
এছাড়া টার্মিনালের মূল হলে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে জার্মান শিল্পী ইউলিয়াস ফন বিসমার্ক-এর তৈরি তিনটি বিশাল ডিস্ক-আকৃতির ভাস্কর্য। ‘দ্য ফার্স্ট, দ্য লাস্ট, ইটারনিটি’ নামের এই শিল্পকর্মে কমলা, লাল ও হলুদ রঙের ঘূর্ণায়মান ডিস্ক ব্যবহার করা হয়েছে, যা যাত্রীদের চলাচলের সঙ্গে সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন দৃশ্য তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক বিমানবন্দর এখন আর শুধু যাত্রী ওঠানামার স্থান নয়; বরং স্থাপত্য, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক গতিশীলতার প্রতীক হয়ে উঠছে। আর সেই বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর বিমানবন্দরগুলোর ২০২৬ সালের তালিকা ভবিষ্যতের বিমানবন্দর নকশার নতুন দিকনির্দেশনাও তুলে ধরেছে।