ভিড়ভাট্টার বিমান, ব্যস্ত বিমানবন্দর কিংবা পুরোপুরি পরিষ্কার না করা হোটেল কক্ষ—ভ্রমণের সময় জীবাণুর সংস্পর্শে আসা প্রায় অবশ্যম্ভাবী। তবে অনেক ভ্রমণকারী অজান্তেই এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তোলেন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ভ্রমণবিষয়ক বীমা কোম্পানি কোটজোনের বিশেষজ্ঞরা এমন পাঁচটি সাধারণ অভ্যাস চিহ্নিত করেছেন, যেগুলো ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বেশি জীবাণু ছড়াতে পারে। খবর: মিরর।

১. হোটেলের টিভি রিমোট পরিষ্কার না করা

বাড়িতে অনেকেই নিয়মিত টিভি রিমোট পরিষ্কার করেন। কিন্তু হোটেলে সেই নিশ্চয়তা নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টিভি রিমোট হোটেল কক্ষের সবচেয়ে বেশি জীবাণুযুক্ত বস্তুগুলোর একটি। এমনকি এটি কখনও কখনও এতে শৌচাগারের চেয়ে বেশি জীবাণু থাকতে পারে।

এক জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি পাঁচজন ব্রিটিশের প্রায় একজন জানিয়েছেন, তারা হোটেলের রিমোট ব্যবহার করার আগে কখনও তা পরিষ্কার করেন না। ফলে আগের অসংখ্য অতিথির জীবাণু সেখানে রয়ে যেতে পারে।

২. বিছানায় স্যুটকেস রাখা

হোটেলে পৌঁছেই অনেকেই স্যুটকেস বিছানার ওপর তুলে খুলতে শুরু করেন।

কিন্তু মনে রাখতে হবে, সেই লাগেজটি বাড়ি থেকে বিমানবন্দর, রেল বা বাস স্টেশন এবং বিভিন্ন রাস্তা পেরিয়ে এসেছে। ফলে এর গায়ে নানা ধরনের ধুলা-ময়লা ও জীবাণু জমে থাকতে পারে।

এসব জীবাণু সরাসরি বিছানার চাদরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই স্যুটকেস রাখার জন্য নির্ধারিত র‌্যাক বা মেঝে ব্যবহার করাই ভালো।

৩. বিমানের সিট পকেটে ব্যক্তিগত জিনিস রাখা

অনেক যাত্রী পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, হেডফোন বা খাবার বিমানের সামনের সিট পকেটে রাখেন।

কিন্তু বিমানকর্মীদের মতে, এটি বিমানের সবচেয়ে অপরিষ্কার জায়গাগুলোর একটি। সাধারণত এখান থেকে শুধু আবর্জনা সরানো হয়, নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করা হয় না।

অনেক সময় সেখানে ব্যবহৃত টিস্যু, চুইংগাম, খাবারের উচ্ছিষ্ট কিংবা অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর বস্তু পাওয়া যায়।

৪. খালি পায়ে হাঁটা

ছুটির আনন্দে অনেকেই হোটেলের করিডোর, বার এলাকা বা সুইমিংপুলের আশপাশে খালি পায়ে হাঁটেন।

কেউ কেউ আবার বিমানের ভেতর কিংবা টয়লেটেও খালি পায়ে প্রবেশ করেন।

এসব স্থানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের পা পড়ে। ফলে মেঝেতে থাকা ব্যাকটেরিয়া সহজেই পায়ের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই স্যান্ডেল বা ফ্লিপ-ফ্লপ ব্যবহার করাই নিরাপদ।

৫. টাচস্ক্রিন ব্যবহারের পর হাত না ধোয়া

বর্তমানে বিমানবন্দরগুলোতে স্বয়ংক্রিয় টাচস্ক্রিন ও বায়োমেট্রিক স্ক্যানারের ব্যবহার বাড়ছে।

বিশেষ করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবেশের সময় যাত্রীদের পাসপোর্ট স্ক্যান এবং আঙুলের ছাপ দিতে হয়।

তবে জরিপে অংশ নেওয়া ১০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা টাচস্ক্রিন বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার ব্যবহারের পর হাত পরিষ্কার করেন না। ফলে জীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

সুস্থ থাকতে কী করবেন?

ভ্রমণবিষয়ক বীমা বিশেষজ্ঞ হেলেন রলফের মতে, ভ্রমণের সময় কিছু অতিরিক্ত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করলে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমানো সম্ভব।

নিয়মিত হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজ করা, টিভি রিমোট কিংবা ট্রে টেবিলের মতো বহুল ব্যবহৃত পৃষ্ঠতল পরিষ্কার করা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর রাখা ভ্রমণকে আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক করতে পারে।