বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে যুক্তরাজ্যের (ইউকে) ভিসা এখন শুধু ব্রিটেন ভ্রমণের অনুমতিপত্র নয়, বরং একাধিক দেশ ভ্রমণের কার্যকর একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৈধ ও ব্যবহৃত ইউকে ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিট থাকলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের অন্তত ২২টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশ, ভিসা অন অ্যারাইভাল অথবা সহজ শর্তে প্রবেশের সুযোগ মিলতে পারে।

ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ইউকে ভিসা ব্যবহার করে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে তুলনামূলক সহজে ভ্রমণ করা সম্ভব। এতে আলাদা ভিসা আবেদন, অতিরিক্ত ফি এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ঝামেলা অনেকটাই কমে যায়।

বর্তমানে বৈধ ইউকে ভিসাধারীদের জন্য সুবিধাজনক গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে আলবেনিয়া, সার্বিয়া, মন্টিনিগ্রো, নর্থ মেসিডোনিয়া, জর্জিয়া, তুরস্ক (ই-ভিসা সুবিধাসহ), সৌদি আরব, মিশর, আজারবাইজান, মেক্সিকো, কোস্টারিকা, পানামা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, অ্যাঙ্গুইলা, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, তুর্কস অ্যান্ড কাইকোস দ্বীপপুঞ্জ এবং মরক্কো।

এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত স্কটল্যান্ড, ওয়েলস, উত্তর আয়ারল্যান্ডসহ অন্যান্য অঞ্চলেও একই ভিসা ব্যবহার করে ভ্রমণ করা যায়। তবে প্রতিটি দেশের প্রবেশনীতি, ভিসার ধরন এবং মেয়াদের ভিত্তিতে সুবিধার শর্ত ভিন্ন হতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য শেনজেন ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া তুলনামূলক কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেক আবেদনকারী স্বল্পমেয়াদি ভিসা পাচ্ছেন এবং আবেদন নিষ্পত্তিতেও দীর্ঘ সময় লাগছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়ায় কঠোর যাচাই-বাছাই ও সাক্ষাৎকারের কারণে অনিশ্চয়তা থেকে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের বিকল্প পথ হিসেবে ইউকে ভিসার গুরুত্ব বাড়ছে। একবার ভিসা অনুমোদন হলে যুক্তরাজ্য সফরের পাশাপাশি একাধিক দেশের ভ্রমণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে পর্যটক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং প্রবাসীদের মধ্যে ইউকে ভিসার প্রতি আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশকে একই ভ্রমণসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করে তুলনামূলক কম খরচে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সফর করা সম্ভব। এতে ভ্রমণ ব্যয় কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও সমৃদ্ধ হয়।

তবে ইউকে ভিসার জন্য আবেদন করার সময় ব্যাংক হিসাবের বিবরণী, আয়ের উৎস, পেশাগত তথ্য, ভ্রমণ ইতিহাস এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি সঠিকভাবে প্রস্তুত রাখা জরুরি। ভুয়া বা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করলে আবেদন বাতিল হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।