অ্যান্টার্কটিকার বরফে ঘেরা নির্জন প্রান্তরে অবস্থিত ‘হুইচাওয়ে ক্যাম্প’ বিশ্বের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ও দূরবর্তী বিলাসবহুল আবাসনগুলোর একটি। ২০০৫ সালে চালু হওয়া এই ক্যাম্পটি মহাদেশটির প্রথম দিকের পর্যটক আবাসনের মধ্যে অন্যতম।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাময়িকী ফারআউট লিখেছে, বরফময় এই মহাদেশে এক রাত কাটানোর খরচ শুনলে অনেকেরই চোখ কপালে উঠতে পারে। 
২০২৫-২৬ মৌসুমে এখানে এক রাতের বা একদিনের অভিজ্ঞতা প্যাকেজের মূল্য ছিল ১৫,৯৫০ থেকে ১৬,৫০০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০ লাখ টাকার বেশি।

আর যদি পুরো এক সপ্তাহ থাকতে চান, তাহলে খরচ হতে পারে ৭১,৫০০ থেকে ১,১০,০০০ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮৫ লাখ থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

তবে এই অর্থ শুধু একটি কক্ষ ভাড়ার জন্য নয়। প্যাকেজের মধ্যে থাকে কেপটাউন থেকে ব্যক্তিগত চার্টার ফ্লাইটে যাতায়াত, বিশেষজ্ঞ গাইড, ব্যক্তিগত শেফের খাবার, বরফগুহা ভ্রমণ, হিমবাহে র‌্যাপেলিং, স্কিইং, নীল বরফের সুড়ঙ্গ অনুসন্ধান এবং বরফ দিয়ে তৈরি বারে শ্যাম্পেন পান করার সুযোগ।
হোটেলটি অ্যান্টার্কটিকার বিরল বরফমুক্ত অঞ্চলের একটিতে নির্মিত। এখানে মাত্র ছয়টি বিলাসবহুল পড বা কক্ষ রয়েছে, যেখানে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১২ জন অতিথি থাকতে পারেন। প্রতিটি কক্ষে রয়েছে সংযুক্ত বাথরুম, কফি মেশিন, আধুনিক আসবাব এবং বিশেষ ওয়ান-ওয়ে গ্লাস, যাতে অতিথিরা বাইরে দেখতে পারেন, কিন্তু বাইরের বন্যপ্রাণী ভেতরে দেখতে না পারে।

এখানে অতিথিরা ম্যাসাজ, সাউনা, আইস প্লাঞ্জ, যোগব্যায়াম ও ধ্যানের সুবিধাও পান। পুরো ভ্রমণে একজন পেশাদার আলোকচিত্রীও সঙ্গে থাকেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ক্যাম্প প্রায় দুই দশক ধরে কার্বন-নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এর আগের অতিথিদের তালিকায় রয়েছেন Prince Harry এবং Bear Grylls-এর মতো পরিচিত ব্যক্তিরাও।

অ্যান্টার্কটিকায় এই অভিজ্ঞতার মূল্য নিঃসন্দেহে আকাশছোঁয়া। তবে পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম মহাদেশে বিলাসিতা, রোমাঞ্চ ও প্রকৃতির এক অনন্য অভিজ্ঞতা একসঙ্গে পাওয়ার সুযোগও যে খুব কম জায়গাতেই মেলে।