ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফুটবল বিশ্বকাপ হিসেবে পরিচিত ২০২৬ বিশ্বকাপেও স্টেডিয়ামগুলো দর্শকে পরিপূর্ণ।
টিকিট, ভ্রমণ ও আবাসনের আকাশছোঁয়া খরচের পরেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীরা স্বপ্ন পূরণে ছুটে গেছেন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে।
বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের অনেক ম্যাচের টিকিটের মূল্য ৩৫০ থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৩ হাজার থেকে ৬ লাখ ১০ হাজার টাকার সমান। এর সঙ্গে যোগ আছে বিমানভাড়া, হোটেল খরচ এবং অন্যান্য ব্যয়।
তবুও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা অনেক সমর্থককে এই বিশাল খরচ বহনে উৎসাহিত করেছে।
ক্রোয়েশিয়ার চার ফুটবল সমর্থক টমিস্লাভ স্পোলিয়ারিচ, দানিয়েল কোপ্রিভনিয়াক, জোরান কোস এবং মিলান পাভিচ বিশ্বকাপ উপলক্ষে ৩৫ দিনের এক দীর্ঘ সফরে বের হয়েছেন।
তারা ক্রোয়েশিয়ার প্রতিটি ম্যাচের পাশাপাশি উদ্বোধনী ম্যাচও সরাসরি দেখার পরিকল্পনা করেছেন। সমর্থক ক্লাবের সদস্য হওয়ায় তারা মাত্র ৬০ ডলারে (প্রায় ৭ হাজার ৩০০ টাকা) টিকিট সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। কম খরচে সফর সম্পন্ন করতে তারা অনেক আগেই ফ্লাইট বুকিং এবং বাজেটভিত্তিক ভ্রমণ পরিকল্পনা করেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চার শৈশববন্ধু বিশ্বকাপকে জীবনের বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখতে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ডলার (প্রায় ৪ লাখ ২৭ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকা) পর্যন্ত ব্যয় করেছেন।
লস অ্যাঞ্জেলেসে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের ম্যাচের জন্য তারা প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির টিকিট কিনেছেন, যার মূল্য ছিল প্রায় ২ হাজার ৭৩৫ ডলার (প্রায় ৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা)। তাদের মতে, এমন অভিজ্ঞতা জীবনে একবারই আসে।
স্কটল্যান্ডের একদল সমর্থক আবার সীমিত বাজেটের মধ্যেই বিশ্বকাপ উপভোগের পথ খুঁজে নিয়েছেন।
১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ায় তারা সুযোগটি হাতছাড়া করতে চাননি। বিমানযাত্রার পয়েন্ট ব্যবহার, কম খরচের আবাসন এবং বন্ধুদের বাসায় অবস্থানের মাধ্যমে তারা মাথাপিছু প্রায় ১ হাজার ২০০ পাউন্ডে সফর সম্পন্ন করছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় এক লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
এদিকে জার্মানির নবদম্পতি নাথানিয়েল ও ইনেস গ্রুন্ডমান নিজেদের হানিমুনের সঙ্গে বিশ্বকাপ ভ্রমণও যুক্ত করেছেন। সমর্থক ক্লাবের সদস্য হওয়ায় তুলনামূলক কম মূল্যে টিকিট সংগ্রহ করে তারা হিউস্টনে জার্মানি ও কুরাসাওয়ের ম্যাচ উপভোগ করেন। তাদের ভাষায়, খরচের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল স্টেডিয়ামের পরিবেশ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের সঙ্গে একসঙ্গে ফুটবল উৎসব উপভোগের অভিজ্ঞতা।
বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রিতে এবার প্রথমবারের মতো ডায়নামিক প্রাইসিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছে ফিফা, যেখানে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকিটের দামও বেড়েছে। এ নিয়ে সমালোচনা থাকলেও দর্শকদের উপস্থিতি প্রমাণ করছে যে ফুটবলের প্রতি মানুষের আবেগ এখনো অটুট।
সমর্থকদের মতে, বিশ্বকাপ কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়; এটি স্মৃতি, বন্ধুত্ব, ভ্রমণ এবং আজীবন মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতার নাম। আর সেই অভিজ্ঞতার জন্যই হাজার হাজার ডলার খরচ করতেও প্রস্তুত বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা।