ভারতের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর বাইরে এমন কিছু গ্রাম রয়েছে, যেখানে এখনো টিকে আছে শতাব্দীপ্রাচীন সংস্কৃতি, অনন্য জীবনধারা এবং অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। পাহাড়, নদী, বন ও স্থানীয় ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এসব গ্রাম ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য হতে পারে নতুন অভিজ্ঞতার গন্তব্য। যারা ভিড় এড়িয়ে শান্ত পরিবেশে প্রকৃত ভারতকে কাছ থেকে দেখতে চান, তাদের জন্য এই ছয়টি গ্রাম বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।
মেচুকা, অরুণাচল প্রদেশ
ভারত-চীন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত মেচুকা উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম কম পরিচিত কিন্তু মনোমুগ্ধকর গন্তব্য। তুষারাবৃত পাহাড়, বিস্তীর্ণ সবুজ উপত্যকা, নদী ও ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঘর এই অঞ্চলের সৌন্দর্যকে অনন্য করে তুলেছে।
এখানে মেম্বা জনগোষ্ঠীর বসবাস। পাশাপাশি শতাব্দীপ্রাচীন বৌদ্ধ মঠও রয়েছে, যা এলাকার সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে। বাণিজ্যিক পর্যটনের প্রভাব তুলনামূলক কম হওয়ায় মেচুকা এখনো তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ধরে রেখেছে।
কালপা, হিমাচল প্রদেশ
হিমাচল প্রদেশের কিন্নৌর জেলার ছোট্ট গ্রাম কালপা জনপ্রিয় শিমলা বা মানালির মতো পরিচিত না হলেও পাহাড়ি সৌন্দর্যের জন্য বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছে।
আপেল বাগান, ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঘর এবং কিন্নর কৈলাশ পর্বতমালার মনোরম দৃশ্য এখানকার প্রধান আকর্ষণ। সূর্যের আলোয় বরফঢাকা পাহাড়ের রঙ পরিবর্তনের দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। শান্ত পরিবেশ ও নিরিবিলি আবহ খুঁজছেন এমন ভ্রমণকারীদের জন্য কালপা আদর্শ।
মাওলিনং, মেঘালয়
এশিয়ার অন্যতম পরিচ্ছন্ন গ্রাম হিসেবে পরিচিত মাওলিনং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। তবে এই গ্রামের আকর্ষণ শুধু পরিচ্ছন্নতায় সীমাবদ্ধ নয়।
সবুজ প্রকৃতি, খাসি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, বাঁশের তৈরি আকাশপথ এবং মেঘালয়ের বিখ্যাত জীবন্ত শিকড়ের সেতু এখানকার অন্যতম দর্শনীয় বিষয়। পরিবেশ সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ মাওলিনংকে একটি অনুকরণীয় উদাহরণে পরিণত করেছে।
খোনোমা, নাগাল্যান্ড
নাগাল্যান্ডের খোনোমা গ্রামকে ভারতের প্রথম ‘সবুজ গ্রাম’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাহাড়ি ঢালে ধাপচাষের ক্ষেত, স্থানীয় স্থাপত্য এবং অ্যাঙ্গামি নাগা জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি এই গ্রামকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে।
খোনোমার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর সংরক্ষণ আন্দোলন। একসময় শিকারপ্রধান জীবনধারা থাকলেও স্থানীয় জনগণ ধীরে ধীরে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্ব দেয়। ফলে এটি এখন সংস্কৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের সফল সমন্বয়ের উদাহরণ।
মুনসিয়ারি, উত্তরাখণ্ড
কুমায়ুন হিমালয়ের কোলে অবস্থিত মুনসিয়ারি বহু জনপ্রিয় ট্রেকিং রুটের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। তবে গ্রামটির নিজস্ব সৌন্দর্যও কম নয়।
পঞ্চচুলি পর্বতশ্রেণির অপূর্ব দৃশ্য, ঘন বনাঞ্চল, পাহাড়ি পথ এবং স্থানীয় সংস্কৃতি এখানে ভ্রমণকে করে তোলে স্মরণীয়। তুলনামূলক কম ভিড় থাকায় প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এটি ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
মাজুলি, আসাম
মাজুলি বিশ্বের বৃহত্তম জনবসতিপূর্ণ নদীদ্বীপ হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে অবস্থিত এই দ্বীপ প্রকৃতি, আধ্যাত্মিকতা ও সংস্কৃতির এক অনন্য সমন্বয়।
এখানকার বৈষ্ণব সত্রগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নৃত্য, সংগীত ও নাট্যধারাকে সংরক্ষণ করে আসছে। গ্রামের রাস্তা ধরে সাইকেল ভ্রমণ, নদীর পাড়ে সূর্যাস্ত দেখা এবং স্থানীয় জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ মাজুলিকে অন্যসব গন্তব্য থেকে আলাদা করেছে।