দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণায় স্বস্তি ফিরেছে কলকাতার ব্যবসায়িক মহলে। বিশেষ করে বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল নিউমার্কেট, পেট্রাপোল সীমান্ত, হোটেল, ওষুধের দোকান, ট্রাভেলসেবা ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের ব্যবসায়ীরা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ভারত বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা কার্যত বন্ধ রাখে। এর ফলে চিকিৎসা, কেনাকাটা ও অবকাশ যাপনের উদ্দেশ্যে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ব্যবসায়ীদের দাবি, এই সময়ে কলকাতার নিউমার্কেটকেন্দ্রিক ব্যবসা প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই কলকাতার ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। আগামী ২৮ জুন থেকে ভিসা কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় বাংলাদেশি পর্যটকদের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। পোশাকের দোকান, হোটেল, ওষুধের দোকান, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, মোবাইল সিম বিক্রেতা থেকে শুরু করে রিকশাচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও তাদের ওপর নির্ভরশীল।

মারকুইস স্ট্রিটের মোড়ে প্রায় ৩০ বছর ধরে ফল বিক্রি করছেন মুহাম্মদ আসলাম। তিনি বলেন, "অনেক দিন ধরেই ব্যবসা খারাপ যাচ্ছে। বাংলাদেশি ক্রেতারা ফিরে এলে আবার আগের মতো ব্যবসা হবে বলে আশা করছি।"

নিউমার্কেটের 'কটন গ্যালারি'র কর্ণধার কামরুদ্দিন মালিক জানান, গত প্রায় দুই বছরে তাদের ব্যবসা প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। তিনি বলেন, "বাংলাদেশিরা আমাদের কাছে অতিথি। তাদের নিরাপদ কেনাকাটার জন্য এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আমরা চাই তারা নিশ্চিন্তে কলকাতায় আসুন।"

নিউমার্কেটের 'গ্লোব ফার্মেসি'র কর্মী কুসুম বলেন, "বাংলাদেশি ক্রেতারাই আমাদের বড় গ্রাহক। তারা মূলত ওষুধ, প্রসাধনী ও শুকনো ফল কিনতে আসেন। ভিসা চালু হওয়ায় আমরা খুবই খুশি।"

মার্কুইস স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোতোষ সাহা বলেন, গত দুই বছর ব্যবসায়ীরা কঠিন সময় পার করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের ফিরে আসার মাধ্যমে আগের প্রাণচাঞ্চল্য আবার ফিরবে।

কলকাতার দন্ত চিকিৎসক সুমিত কুমার সাহার মতে, এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের জনগণের যোগাযোগ আরও সহজ করবে। একই সঙ্গে চিকিৎসা, পর্যটন ও বাণিজ্য খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

শুধু নিউমার্কেট নয়, ভারত-বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যস্ত স্থলবন্দর পেট্রাপোলেও একই ধরনের প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে। অধিকাংশ বাংলাদেশি পর্যটক বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে সড়কপথে কলকাতায় যান। ফলে সীমান্তকেন্দ্রিক পরিবহন, হোটেল, রেস্তোরাঁ, ট্রাভেল এজেন্সি ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবসাও বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।

পেট্রাপোল বন্দরের ফরওয়ার্ডিং অ্যান্ড ক্লিয়ারিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, "পর্যটন ভিসা চালু হলে শুধু যাত্রীই বাড়বে না, সীমান্ত এলাকার ব্যবসাও আবার গতি ফিরে পাবে।"

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু হচ্ছে ২৮ জুন।

ব্যবসায়ীদের দাবি, গত দুই বছরে নিউমার্কেটের ব্যবসা প্রায় ৬০ শতাংশ কমেছে।

সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে নিউমার্কেট, পেট্রাপোল সীমান্ত, হোটেল, ওষুধ, পরিবহন ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসা।