পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে জাপানের আবাসন খাত।
সরকারি প্রতিবেদনের বরাতে জাপান টুডের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির ৭০ শতাংশেরও বেশি হোটেল ও আবাসন প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে জনবল সংকট রয়েছে। ফলে পর্যটন খাতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে আরও বেশি বিনিয়োগ এবং কর্মীদের জন্য উন্নত বেতন-সুবিধা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
সরকারের বার্ষিক পর্যটন শ্বেতপত্রে সতর্ক করা হয়েছে, এই পরিস্থিতি একটি ‘দুষ্টচক্র’ তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ, কাজের চাপ বাড়তে থাকলে আরও বেশি কর্মী চাকরি ছেড়ে দিতে পারেন, যা সংকটকে আরও গভীর করবে।
গত ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে ৫২২টি আবাসন প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, ৭২ দশমিক ২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই জনবল সংকটের কথা জানিয়েছে। তাদের মতে, ব্যস্ত মৌসুমে বর্তমান কর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ সামাল দেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে এই সংকট শুধু পর্যটন খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। দ্রুত বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জন্মহার কমে যাওয়ায় জাপানের বিভিন্ন খাতেই শ্রমিকের অভাব দেখা দিয়েছে। এছাড়া উৎপাদন খাতের তুলনায় সেবাখাতে বেতন তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকেই এসব চাকরিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। যদিও কঠোর অভিবাসন নীতির জন্য পরিচিত জাপান ধীরে ধীরে বিদেশি কর্মীদের জন্যও সুযোগ বাড়াচ্ছে।
সরকারের প্রতিবেদনে হোটেল পরিচালনাকারীদের স্বয়ংক্রিয় চেক-ইন ব্যবস্থা, খাবার পরিবেশনকারী রোবটসহ আধুনিক প্রযুক্তিতে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত সেবা গ্রাহকদের সন্তুষ্টি ও প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়াবে। এর ফলে কর্মীদের বেতনও বাড়ানো সম্ভব হবে।
মার্কিন ডলারের মতো প্রধান মুদ্রার তুলনায় ইয়েনের দর কমে যাওয়ায় বিদেশি পর্যটকদের কাছে জাপান ভ্রমণ তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। এর ফলে দেশটিতে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পর্যটন খাতে কিছুটা প্রভাব ফেললেও, ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো জাপানে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ৪ কোটির সীমা অতিক্রম করে। একই সঙ্গে পর্যটকদের ব্যয়ও নতুন রেকর্ড গড়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৬ কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে।