বিশ্বজুড়ে ভ্রমণের সংখ্যা আগামী বছরগুলোতেও বাড়তে থাকবে। ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্বে ভ্রমণকারীর সংখ্যা ২৪০ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে নতুন এক গবেষণা।
২০২৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পর্যটক যাওয়া দেশের শিরোপা ধরে রেখেছে ফ্রান্স। দেশটি গত বছর রেকর্ড ১০ কোটি ২০ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটককে স্বাগত জানিয়েছে। 
দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাতে ইউরো নিউজ লিখেছে, বিদেশি পর্যটকদের ৭৬ শতাংশই ইউরোপ থেকে এসেছেন।
তবে ফ্রান্সের খুব কাছেই রয়েছে স্পেন। ২০২৫ সালে স্পেনে ৯ কোটি ৬৮ লাখ বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন, যা ২০২৪ সালের ৯ কোটি ৪০ লাখের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
ডেলয়েট ও গুগলের যৌথ গবেষণায় ১৯৯০ সাল থেকে পর্যটন খাতের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে ২০৪০ সাল পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রবণতার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, ২০৪০ সালে স্পেনে বছরে প্রায় ১১ কোটি পর্যটক যেতে পারেন। বিপরীতে ফ্রান্সে যেতে পারেন প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ পর্যটক। ফলে স্পেন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পর্যটক যাওয়া দেশে পরিণত হতে পারে।
ইউরোপীয় দেশগুলো ২০৪০ সালের বৈশ্বিক পর্যটন ভ্রমণের সবচেয়ে বড় অংশ, প্রায় ৩৮ শতাংশ, আকর্ষণ করবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে ইউরোপে অতিরিক্ত ৩৬ কোটি ২০ লাখ পর্যটক যেতে পারেন।
স্পেন ও ফ্রান্সের পর যুক্তরাষ্ট্র ও চীন শীর্ষ পাঁচে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতালি ষষ্ঠ স্থানে নেমে যেতে পারে, আর মেক্সিকো উঠে আসতে পারে পঞ্চম স্থানে। সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও শীর্ষ ১৫-তে ঢুকতে পারে।
তবে পর্যটক বাড়ার সঙ্গে স্পেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অতিরিক্ত পর্যটন বা ওভারট্যুরিজম। দেশটির বিভিন্ন শহর ও দ্বীপে অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ নিয়ে নিয়মিত প্রতিবাদ হচ্ছে।
পর্যটন নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বার্সেলোনা ২০২৮ সালের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি পর্যটক অ্যাপার্টমেন্ট পুরোপুরি বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছে। বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে অ্যালকোহল গ্রহণ ও পার্টি বোটের ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিকভাবে পর্যটন স্পেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের আশঙ্কা—পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে থাকলে দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ, আবাসন ও স্থানীয় জীবনযাত্রার ওপর চাপ আরও বাড়বে।