মেক্সিকোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চিয়াপাসে সুমিদেরো ক্যানিয়ন দেখতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়েন একদল পর্যটক। তাদের বহনকারী ট্যুর বাসটি খাড়া ঢালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ পেছনের দিকে গড়াতে শুরু করে। সামনে ছিল প্রায় ১,০০০ মিটার গভীর গিরিখাদ।
জুলাইয়ে ৬০০ মেক্সিকান পেসো বা প্রায় ২৫ দশমিক ৬৬ পাউন্ড দিয়ে তাঁরা এই ট্যুরে অংশ নেন। ক্যানিয়নের দৃশ্য দেখার পর সবাই বাসে ফিরে ওঠেন। শেষ পর্যটকেরাও বাসে ওঠার সময় হঠাৎ সেটি পেছনের দিকে চলতে শুরু করে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এক পর্যটক বাসের হ্যান্ডব্রেক টানার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেটি আগে থেকেই ওঠানো ছিল। গিরিখাদের দিকে বাস এগিয়ে যাচ্ছে বুঝতে পেরে কয়েকজন যাত্রী প্রাণ বাঁচাতে চলন্ত বাস থেকে মাথা নিচের দিকে দিয়ে লাফ দেন। খবর: মিরর
শেষ পর্যন্ত একটি বোলার্ড বা রাস্তার নিরাপত্তা খুঁটিতে ধাক্কা খেয়ে বাসটি থেমে যায়। ফলে বাসটি গিরিখাদে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়। তবে পালানোর সময় কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথের ৩০ বছর বয়সী জেমস গ্যাম্বল বলেন, তাঁর মনে হয়েছিল তিনি মারা যেতে যাচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। বাস থামার পরও প্রায় এক ঘণ্টা তাঁর শরীর কাঁপছিল।
২২ বছর বয়সী সুইস পর্যটক সোফি ব্যাডেল চলন্ত বাস থেকে লাফ দেওয়ার সময় একটি পার্ক করা গাড়িতে মাথায় আঘাত পান। তাঁর মাথা থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। ঘটনাস্থলে অন্য একটি ট্যুরের ব্রিটিশ এক নার্স তাঁর মাথায় ব্যান্ডেজ করে দেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
২০ বছর বয়সী ব্রিটিশ পর্যটক হুগো ইভান্সও বাস থেকে লাফ দেওয়ার সময় মাথায় আঘাত পান। তাঁর মাথা থেকে রক্তক্ষরণ হয় এবং ঘটনাস্থলেই প্যারামেডিকরা চিকিৎসা দেন।
বাসে ব্রিটিশদের পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডের পর্যটকরাও ছিলেন। দুর্ঘটনার পর সবাইকে ট্যুরের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আহত সোফি জানান, কয়েক সপ্তাহের যোগাযোগের পর তাঁর চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর অনেক যাত্রী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। দুর্ঘটনার বিষয়ে ট্যুর অপারেটরের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও প্রতিবেদনে তাদের বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।