টোকিওর ব্যস্ত এক রাস্তায় হাতে খালি কফির কাপ আর কিছু খাবারের প্যাকেট নিয়ে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারলাম—কোথাও যেন ময়লার ঝুড়ি নেই। জাপানে ভ্রমণের আগে এ বিষয়ে কিছুটা জানলেও বাস্তবে বিষয়টি এতটা কঠিন হবে, তা বুঝিনি।
জাপানে গণময়লার ঝুড়ি খুবই কম। তাই পর্যটকদের নিজের সঙ্গে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেখানে ব্যবহৃত প্যাকেট, বোতল বা অন্য আবর্জনা রেখে পরে হোটেলে গিয়ে ফেলে দেওয়া যায়। স্থানীয়রা এই অভ্যাসে অভ্যস্ত।
নিজের ব্যাগে আবর্জনা না রাখা কিংবা সকালের শেষ করা কফির কাপ হাতে নিয়ে রাস্তায় ঘোরাকে অনেক স্থানীয় মানুষ পর্যটকের অনভিজ্ঞতার লক্ষণ হিসেবে দেখেন।
জাপানে গণময়লার ঝুড়ি কম থাকার পেছনে রয়েছে ১৯৯৫ সালের একটি ভয়াবহ ঘটনা। ওই বছর উগ্রপন্থী ধর্মীয় সংগঠন আউম শিনরিকিও টোকিওর কয়েকটি পাতাল রেল স্টেশনে সারিন গ্যাস হামলা চালায়। হামলাকারীরা সারিন তরলভর্তি প্লাস্টিকের ব্যাগ ট্রেনের ভেতরে ফেলে সেগুলো ফুটো করে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে দিয়েছিল। এতে ১৪ জন নিহত এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হন।
এরপর নিরাপত্তার কারণে সরকার অনেক পাতাল রেল ও ট্রেন স্টেশন থেকে গণময়লার ঝুড়ি সরিয়ে নেয়। এখনো যেসব ঝুড়ি রয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলো স্বচ্ছ প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি, যাতে ভেতরের জিনিস সহজে দেখা যায়।
স্থানীয়দের পরামর্শ হলো, খাবার কিনলে সম্ভব হলে কনভিনিয়েন্স স্টোরের কাছেই খেয়ে আবর্জনা সেখানকার নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দেওয়া। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খাবার খাওয়াও জাপানে খুব একটা প্রচলিত নয়।
পর্যটকদের আরও কিছু আচরণ স্থানীয়দের বিরক্ত করতে পারে। জাপানের বেসরকারি রেলওয়ে অ্যাসোসিয়েশনের এক জরিপে ৫ হাজার ২০২ জনের মধ্যে ৬৯ শতাংশ বলেছেন, গণপরিবহনে অতিরিক্ত শব্দ তাদের সবচেয়ে বেশি বিরক্ত করে। বড় আকারের লাগেজও ৪২ শতাংশ মানুষের অপছন্দ।
এ ছাড়া গণপরিবহনে খাবার খাওয়াও জাপানে অনেক ক্ষেত্রে অশোভন বলে বিবেচিত হয়। তাই জাপান ভ্রমণে স্থানীয়দের অভ্যাস অনুসরণ করা এবং নিজের আবর্জনা নিজেই বহন করা ভ্রমণকে আরও স্বস্তিদায়ক করতে পারে।