ঢাকার ব্যস্ত নাগরিক জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে মৈনট ঘাট হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। রাজধানী থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত পদ্মা নদীর তীরঘেঁষা এই স্থানটি তার বিস্তীর্ণ বালুচর, নদীর মনোরম দৃশ্য এবং শান্ত পরিবেশের কারণে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

ঢাকার দোহার উপজেলায় অবস্থিত মৈনট ঘাট রাজধানী থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে। ফলে সকালে রওনা হয়ে সারাদিন ঘুরে সন্ধ্যার মধ্যেই ঢাকায় ফিরে আসা যায়। একদিনের স্বল্প খরচের ভ্রমণের জন্য এটি দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় একটি গন্তব্য।

মৈনট ঘাটে পৌঁছালে চোখে পড়ে পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ জলরাশি। নদীর বুকে ভেসে চলা মাছ ধরার নৌকা, খোলা আকাশ, শীতল বাতাস এবং নদীপাড়ের নিরিবিলি পরিবেশ দর্শনার্থীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে। বিশেষ করে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে।

মৈনট ঘাটে যেতে চাইলে গুলিস্তান থেকে সরাসরি যমুনা ডিলাক্স বাসে যাওয়া যায়। এছাড়া ফুলবাড়িয়া থেকে নগর পরিবহনের বাসে কার্তিকপুর বাজার পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে অটোরিকশায় ঘাটে পৌঁছানো সম্ভব। বাবুবাজার ও কদমতলী এলাকা থেকেও স্থানীয় সিএনজি পাওয়া যায়।

ঋতুভেদে মৈনট ঘাটের সৌন্দর্য ভিন্ন রূপ ধারণ করে। বর্ষায় পদ্মার উত্তাল ঢেউ ও সবুজ প্রকৃতি মন কাড়ে। শরতে নদীর তীরজুড়ে ফুটে ওঠা কাশফুল ছবি তোলার জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। আর শীতে সরিষাখেত, শান্ত নদী এবং জেগে ওঠা চরগুলো পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

মৈনট ঘাট ভ্রমণের আরেকটি আকর্ষণ আশপাশের ঐতিহাসিক স্থাপনা। বান্দুরা এলাকায় অবস্থিত প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো কোকিল প্যারি জমিদার বাড়ি, যা কালাকোপা জমিদার বাড়ি নামেও পরিচিত, দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আগ্রহের বিষয়। পাশাপাশি জজবাড়ি, উকিলবাড়ি ও আন্ধারকোঠার মতো ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাও ঘুরে দেখা যায়।

খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে মৌসুমভেদে। শীত ও শুকনো মৌসুমে নদীপাড়ে অস্থায়ী খাবারের দোকান বসে, যেখানে টাটকা ইলিশসহ বিভিন্ন স্থানীয় খাবার পাওয়া যায়। বর্ষাকালে কার্তিকপুর বাজারের হোটেলগুলোই ভরসা। এ বাজারের রণজিৎ মোদক ও নিরঞ্জন মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের রসগোল্লা এবং দইও বেশ জনপ্রিয়।

তবে মৈনট ঘাটে উন্নত মানের আবাসন ব্যবস্থা নেই। তাই এটি মূলত একদিনের ভ্রমণের জন্যই বেশি উপযোগী। ভ্রমণের সময় পদ্মা নদীর প্রবল স্রোতের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, বন্যপ্রাণীর প্রতি সহনশীল আচরণ এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্যমূলক ব্যবহার করাও একজন দায়িত্বশীল ভ্রমণকারীর কর্তব্য।

প্রকৃতি, নদী, ইতিহাস ও গ্রামীণ আবহের অনন্য সমন্বয়ে মৈনট ঘাট এখন ঢাকার কাছাকাছি সবচেয়ে জনপ্রিয় একদিনের ভ্রমণ গন্তব্যগুলোর অন্যতম।